হ্যারি পটার(Harry Potter) সিরিজ

হ্যারি পটার(Harry Potter) সিরিজ টি জে কে রাওলিং এর অসাধারণ ভাবনার ফল।হ্যারি পটার সিরিজে সাতটি খন্ড রয়েছে। হ্যারি পটার নামের […]

হ্যারি পটার(Harry Potter) সিরিজ টি জে কে রাওলিং এর অসাধারণ ভাবনার ফল।হ্যারি পটার সিরিজে সাতটি খন্ড রয়েছে। হ্যারি পটার নামের এক অনাথ কিশোর জাদুগরের কাহিনী ঘিরে আবর্তিত হয়েছে এই সিরিজের উপন্যাসগুলি।আজকে আমরা হ্যারি পটার সিরিজের ব্যাপারে জানবো।

হ্যারি পটার(Harry Potter) সিরিজের বই সমূহ

১) হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স  স্টোন(১৯৯৭, যুক্তরাষ্ট্রে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সরসরার্স স্টোন নামে প্রকাশিত)

২) হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অফ সিক্রেটস(১৯৯৮)

৩) হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অফ আজকাবান(১৯৯৯)

৪) হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অফ ফায়ার(২০০০)

৫) হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্স(২০০৩)

৬) হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ- ব্লাড প্রিন্স(২০০৫)

৭) হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস(২০০৭) 

লেখিকা জে কে রাওলিং

লেখিকা জে কে রাওলিং এর পুরো নাম জোয়ান ক্যাথলিন রাওলিং। ইংল্যান্ডের ফরেস্ট অব ডিন- এ তার বেড়ে ওঠা। এক্সিটার ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছোটবেলা থেকেই ছিল লেখালেখির শখ। ছয় বছর বয়েসেই র‍্যাবিট নামের একটি গল্পের বই প্রকাশ করেন তিনি। মূলত জীবিকার তাগিদেই উপন্যাস লেখা শুরু করেন তিনি। ভালো কলম না থাকায় অধিকাংশ সময়েই তিনি গল্পের কাহিনী সম্পর্কে ভাবতেন। তার এই ভাবনার ফসল হ্যারি পটার সিরিজ।

জে কে রাওলিং

ভাবনার শুরু

১৯৯০ সালের ঘটনা। জে কে রাওলিং ম্যানচেস্টার থেকে যাত্রী বোঝাই ট্রেনে লন্ডন আসছিলেন।সেখানেই ভাবনার শুরু।  চার ঘন্টা ট্রেনের ভীড়ে তিনি ভেবেছেন হ্যারি পটার নামের এক অনাথ কিশোরকে নিয়ে। যে তার খালা-খালুর সাথে থাকে। এই কিশোর নিজেও জানতো না যে তার মধ্যে কী অসাধারণ জাদুগরি ক্ষমতা আছে।সেই সন্ধ্যায় লেখিকা তার প্রথম উপন্যাস লেখায় হাত দেন। এরপর ধীরে ধীরে আমাদের উপহার দেন হ্যারি পটার সিরিজটি।

image source: google

প্রকাশকদের অনিচ্ছা এবং জনপ্রিয়তা

 হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম উপন্যাসটি শেষ করার পর প্রকাশের জন্য প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছিল জে কে রাওলিং কে। দেখতে হয়েছিল প্রকাশকদের অনিচ্ছা ভরা মুখ। আটজন প্রকাশক ফিরিয়ে দেওয়ার পর পান্ডুলিপিটি ব্লুমসবারি চেয়ারম্যান নিগেল নিউটন এর হাতে পড়ে। সেইসময় ব্লুসবারি ছিল ছোট একটি প্রকাশনা। নিগেল পান্ডুলিপিটি নিজে না পড়ে তার আট বছরের মেয়ে এলিসকে পড়তে দেন। এলিস বইটি পড়ে পিতাকে বই প্রকাশ করতে বলেন। ব্লুমসবেরি রাওলিং কে অগ্রিম ২৫০০ ডলার প্রস্তাব দেয়।

এরপর লেখিকাকে আর পিছু ফিরে দেখতে হয় নি। হ্যারি পটার সিরিজের জনপ্রিয়তা এতটাই হয় যে বই প্রকাশের আগের দিন থেকেই পাঠকের ভিড় জমে যেত দোকানের সামনে!২০০৭  সালের এপ্রিল অব্ধি সাতটি বইয়ের প্রথম ছয়টি বই সারা পৃথিবীতে ৩২৫ মিলিয়ন কপিরও বেশি বিক্রী হয়েছে এবং ৬৪ টিরো অধিক ভাষায় অনূদিত হয়। যা শুধুমাত্র কোরআন , বাইবেলের বুক অব মরমন এর ক্ষেত্রেই হয়েছে।

image source: Wikipedia

মূলভাব

লেখিকার মতে হ্যারি পটার সিরিজের একটি বিশেষ থিম হলো মৃত্যু। সিরিজে ভালোবাসার সাথে মৃত্যুর বিরোধ দেখানো হয়েছে।  জে কে রাওলিং বলেছেন,

” আমার বই অনেকাংশেই মৃত্যু সম্পর্কিত। এসবের শুরু হয়েছে হ্যারির পিতা মাতার মৃত্যু দিয়ে। মৃত্যুকে জয় করে যেকোন মূল্যে অমরত্ব পাওয়াই ভোলডেমরট উদ্দেশ্যে যেটি যেকোন যাদুকরেরই লক্ষ্য। আমি তাই বুঝতে পারি ভোল্ডেমরট কেনো মৃত্যু জয় করতে চায়। আমরা সকলেই মৃত্যুভয়ে ভীত।”

হ্যারি পটার সিরিজের মূলভাব ব্যাক্ত করতে লেখিকার মত।

এছাড়াও অহংকার ও ভেদাভেদ , বাছাই করার ক্ষমতা , ভালোবাসা, আত্মম্ভরিতা, সিদ্ধান্তগ্রহণ, বন্ধুত্ব ও আনুগত্য ইত্যাদি ভাব মুল কাহিনীর গভীরে ছড়িয়ে আছে।

কাহিনী সংক্ষেপণ

এই সিরিজের উপন্যাসগুলো প্রায় কল্পসাহিত্য ধরনের, কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা বিষয়ক উপন্যাসের সাথে মিল রয়েছে।

হ্যারি পটার সিরিজের কাহিনীর শুরু গোপন জাদু বিশ্বকে নিয়ে। দেখা যায় জাদু বিশ্ব কালো জাদুকর লর্ড ভোল্ডেমরটের ভয়ে ভীত- সন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। একরাতে এই কালো জাদুকর গোপনে থাকা পটার পরিবারের সন্ধান পায় এবং হ্যারির বাবা- মা লিলি ও জেমস পটারকে হত্যা করে। হ্যারিকে মৃত্যু অভিশাপ দিয়ে খুন করার চেষ্টা করলে অভিশাপ তার দিকেই ফিরে আসে। ফলে কালো জাদুকর জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি একটা স্থানে আটকে যায়। হ্যারির বেঁচে যাওয়ার এ কাহিনী ছড়িয়ে পরে। হ্যারিকে সবাই ‘ যে ছেলেটি বেঁচে ছিল'(the boy who lived) বলে ডাকতে শুরু করে।

  পরবর্তীতে হযারি তার নিষ্ঠুর আত্মীয় ডারসলিদের কাছে থাকতে শুরু করে। হ্যারি তার জাদুবিদ্যার কথা জানতো না। সে তার এগারতম জন্মদিনে প্রথম জাদু বিশ্বের কথা জানতে পারে। এগারতম জন্মদিনে হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্রাফট অ্যান্ড উইজার্ডরি থেকে ভর্তির চিঠি আসে। কিন্তু হ্যারি সেই চিঠি পড়তে পারেনি। স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে নিতে আসলে সে বুঝতে পারে সে একজন জাদুগর। হ্যারি স্কুলে যোগদান করে এবং জাদুবিদ্যা আয়ত্ত্ব করে। প্রতিটি বইয়ে হ্যারির স্কুল জীবনের এক বছরের বর্ণনা রয়েছে। এর বেশিরভাগ অংশেই বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার, জাদু বিদ্যা শেখা, বন্ধুদের সাথে আচরণ, ভোরডেমরটের সাথে লড়াই, তার মানুসিক অবস্থা ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে।

মূল চরিত্র সমূহ

 হ্যারি পটারঃ জেমস ও লিলি পটারের একমাত্র সন্তান। যার কাহিনী অবলম্বনে হ্যারি পটার সিরিজটি রচিত হয়েছে।

রন উইজলিঃ হ্যারির সবচেয়ে কাছের বন্ধু। রন হচ্ছে হ্যারির সব অ্যাডভেঞ্চারের সাথী।

হারমায়োনি গ্রেঞ্জারঃ হারমায়োনি, হ্যারি এবং রনের কাছের বন্ধু। সে হ্যারির বর্ষের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। অনেকে হারমায়োনির মাঝে জে কে রাউলিং এর ছায়া দেখতে পান।

পুরষ্কার

হ্যারি পটার সিরিজ প্রকাশের পর জে কে রাউলিং অনেক পুরষ্কার পেয়েছেন। পুরষ্কার গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-

৪টি হুইটেকার প্লাটিনাম বুক অ্যাওয়ার্ডস ( সবগুলোই ২০০১ সালে)

৩টি নেসলে স্মারটিস বুক প্রাইজ(১৯৯৭-১৯৯৯)

২টি স্কটিশ আর্টস কাউন্সিল বুক অ্যাওয়ার্ডস ( ১৯৯৯ ও ২০০১)

হুইটব্রেড বর্ষসেরা শিশুতোষ গ্রন্থ পুরস্কার (১৯৯৯)

ডব্লিউ এইচ স্মিথ বর্ষসেরা বই (২০০৬)

হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার ২০০১ সালে হিউগো পুরষ্কার পায়।

অনুবাদ

হ্যারি পটার সিরিজটি ৬৩ টিরও বেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকান ইংরেজি, বাংলা, ইউক্রেনীয়, হিন্দি, ওয়েলস, ভিয়েতনামী ভাষা উল্লেখযোগ্য। প্রথম খন্ডটি লাতিন ও প্রাচীন গ্রীক ভাষায়ও অনূদিত হয়।

অন্যান্য মিডিয়া

হ্যারি পটারের কাহিনী নিয়ে সাতটি চলচ্চিত্র রয়েছে। চলচিত্রগুলো থেকে ৫ টি ভিডিও গেম নির্মিত হয়েছে। সবমিলিয়ে ৪০০ এর অধিক হ্যারি পটার সংক্রান্ত পণ্য রয়েছে। জুলাই ২০০৫ পর্যন্ত এগুলো আয় করেছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। রাওলিং বিলিয়নারে পরিণত হয়েছে যা তাকে ব্রিটেনের রানীর থেকেও বিত্তবানে পরিণত করেছে।

হ্যারি পটার(Harry Potter) সিরিজ পরিচিতি

সিরিজঃ হ্যারি পটার

লেখিকাঃ জে কে রাউলিং

প্রকাশকালঃ১৯৯৭-২০০৭

প্রকাশনীঃ ব্লুমসবারি পাবলিশিং

ভাষাঃ ইংরেজি

জনরাঃ কল্পকাহিনী, থ্রিলার, রহস্য

গ্রন্থ স্বত্বঃ জে কে রাওলিং

শঙ্কু সমগ্র সম্পর্কে জানতে পড়ুন শঙ্কু সমগ্র

হুমায়ূন আহমেদের উক্তিমালা পড়ুন

রিভিউ- টাইম ম্যানেজমেন্ট


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.