হিরে বসানো সোনার ফুল

হিরে বসানো সোনার ফুল_ সমরেশ মজুমদারপ্রকাশনীঃ আনন্দ পাবলিশার্সব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫ সমরেশ মজুমদারের যেকোনো বই আমি অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়ি। হিরে […]

হিরে বসানো সোনার ফুল
_ সমরেশ মজুমদার
প্রকাশনীঃ আনন্দ পাবলিশার্স
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫

সমরেশ মজুমদারের যেকোনো বই আমি অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়ি। হিরে বসানো সোনার ফুল-এর ক্ষেত্রেও তার
ব্যতিক্রম হয়নি

হিরে বসানো সোনার ফুল বইটিকে সামাজিক উপন্যাস বলা যেতে পারে। সামাজিক বলার কারণ উপন্যাসে লেখক
নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে বলেছেন। দুজন মহিলার নিজের জায়গায় থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াই ফুটে
উঠেছে সমরেশের হিরে বসানো সোনার ফুল উপন্যাসে। কোনো আহামরি গল্প নয়,তবুও অন্যরকম!
বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে মানুষের মানুসিকতা কেমন ছিল তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে এই উপন্যাস পড়লে।
নারীই যে নারীর উন্নয়নে বড় বাঁধা এই কথাটা পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠেছে বইটিতে। নিজের আত্মসম্মানটা যে
কত বড় তাও প্রকাশ পেয়েছে। সব পেশারই ভালো-খারাপ থাকে,এই দিকটি যেন হিরে বসানো সোনার ফুল
উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র মানতে নারাজ!
তিতির এবং রঞ্জনার স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প এটি। তিতিরের বৌদি রঞ্জনা। কোনো কাজ না পেয়ে হতাশ
তিতির ভাগ্যক্রমে এবং নিজের অভিনয়গুণে একদিন পেয়ে যায় সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ।কিন্তু অভিনয়…!
ভদ্র ঘরের মেয়ে অভিনয় করবে কী…! এটা কি ভদ্র মেয়েদের কাজ…? এমন হাজার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে
হয় তাকে। নিজের মা-ভাই তাকে বিশ্বাস করতে পারে না। কিন্তু পাশে পায় বাবাকে!
অপরদিকে রঞ্জনা প্রেম করে বিয়ে করে তিতিরের দাদা সুবীরকে। সংসারে ঘরবন্ধী থাকতে থাকতে তার
ক্লান্তি এসে যায়, মানসিকতা খারাপ হয়ে যায়। একদিন ভাগ্যক্রমে সেও পেয়ে যায় চাকরি। কিন্তু সুবীর চায় না
তার স্ত্রী চাকরি করুক। হায়রে সমাজ…! অভিনয় করলেও চরিত্র থাকে না,চাকরি করলেও সতীত্ব নষ্টের
ভয়!এই সময় রঞ্জনাও পাশে পায় ননদ এবং শ্বশুরকে।
গল্পের শুরু এভাবেই। এরপর হতে থাকে নানা চড়াই-উত্রাই! কারো সম্পর্কের শুরু,কারো সম্পর্কের শেষ, কারো
জীবনের অবসান,কারো সাফল্যের শুরু,কারো বা পতনের শুরু…! জীবন এগিয়ে যায়। এইসব চরিত্রের জীবনও
এগিয়ে গেছে শেষ পাতা অব্দি!


পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
সমরেশ মজুমদার মানেই অসাধারণ এক লেখনশৈলীর অধিকারী লেখক। আমি ব্যক্তিগতভাবে সমরেশের বইগুলো
অনেক পছন্দ করি। তার একমাত্র কারণ লেখনশৈলী! একঘেয়েমি বলে কোনো কিছুই মনে হয় তার মোটা মোটা
বইগুলো পড়েও। প্লট সে যেমনই হোক! এই বইটাও তার ব্যতিক্রম নয়। সাধারণ একটা প্লটের গল্পকে
অসাধারণ করে তোলার ক্ষমতা আছে সমরেশের। তবে আমার একটা বিষয় ভাল লাগেনি, বইয়ে বেশ কয়েক
জায়গায় একই লাইন ব্যবহার করা হয়েছে। একই বাক্যের পূণঃব্যবহারে সামান্য ভ্রূকুঞ্চিত হয়েছে!


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.