• Home
  • রিভিউ
  • সাঁতারু ও জলকন্যা ( শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়)

সাঁতারু ও জলকন্যা ( শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়)

”বেঁচে থাকলে,শুধু বেঁচে থাকতে পারলে,কোন রকমে বেঁচে থাকলে জীবনে কত কী যে হয়! কত কি পাওয়া যায়” উপরোক্ত লাইন গুলো […]

”বেঁচে থাকলে,শুধু বেঁচে থাকতে পারলে,কোন রকমে বেঁচে থাকলে জীবনে কত কী যে হয়! কত কি পাওয়া যায়”

উপরোক্ত লাইন গুলো জনপ্রিয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লিখা উপন্যাস ” সাঁতারু ও জলকন্যা ” থেকে নেওয়া।প্রতিটি মানুষ তার  অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে চায়।শুধু মাত্র বেঁচে থাকতে পারলে এই দুনিয়া অনেক কিছু করা সম্ভব। দিন শেষে প্রতিটি জীব চায় বেঁচে থাকতে।

    প্রধান (সাঁতারু ও জলকন্যা) চরিত্র সূমহ

★ অলক ( নায়ক)

★সত্যকাম (অলকের বাবা)

★ মনীষা (অলকের মা)

★মধুরা (অলকের বড় বোন)

★প্রিয়াঙ্গি  ( অলকের ছোট বোন)

★বনানী ( নায়িকা)

অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে সুছন্দা ও চিনি বউ অন্যতম 

সাঁতারু ও জলকন্যা

সাঁতারু ও জলকন্যা উপন্যাস শুরু হয় অলক যিনি এই উপন্যাসের নায়ক তার জলের প্রতি তীব্র ভালোবাসা দিয়ে। অলকের জীবন জল ছাড়া পানসে মনে হয় তাই সে সাঁতারকে নিজের একমাত্র সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে। অলকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গেলে প্রথমে আসবে নির্বিকার চাহনি আর প্রশ্নহীন একজন যুবক। বাবা -মা, ঘর সংসার কারো সাথেই বিশেষ খাতির নেই অলকের।

অলকের বাবা সত্যকাম অবশ্য এটাকে জেনারেশন গ্যাপ বলেই মনে করেন।কিন্তু মা’র মন্তব্য ছেলে কে বুঝতেই পারেন না বাবা। মা অবশ্যই ছেলে কে যে অনেক বুঝেন না তা কিন্তু না মা’র কাছেও তার ছেলে যেনো এক রহস্য

সাঁতারু ও জলকন্যা
মেয়েদের সাথে অলকের সম্পর্ক সহজ স্বভাবিক। বেশিরভাগ সময় অলক নিজের যৌবন কে খানিকটা গুটিয়ে নেন মেয়েদের কাছ থেকে। মাঝে মাঝে অনেক মেয়েদের সাথে অনেক ঘনিষ্ঠতা হয় কিন্তু  তাদের সাথে গভীর হয়ে তার ভিতরকার হাহা থেকে যায় Girls just touch his body, Don’t mind and heart ,অলক এই ঘনিষ্ঠ সময় গুলোতে জলের ছোঁয়া খুঁজে তার কেবলই মনে হয় জলের মতো শরীর নেই কেন কোনো মেয়ের? 

এদিকে বনানী মা মরা মেয়ে। বাবা মায়ের বোন কে (মাসি) বিয়ে করে ঘরে তুলেন।বনানীর দিন গুলো বেশ ভালোই যাচ্ছিলো কিন্তু মাসির যখন মেয়ে এলো ঘরে বনানীর ও ঘর ছাড়তে হলো তার ঠাঁই হলো দাসশর্মা বাড়ির গোয়াল ঘরে। বাবার সাথে অবশ্য তার মাঝে মাঝে দেখা হয়, 

বাপের এক কথা, তুই মরার জন্য জন্ম নিয়েছিস 

বনানী অবশ্য মনে মনে ধরে নিয়েছে সে আসলেই পোড়ামুখী। তার ভাগ্যের উত্থান হলো যখন দাসশর্মা বাড়িতে চিনি বউ এর আগমন হলো। বনানীকে সে বেশ স্নেহ করে মাঝে মাঝে বই দেয় পড়ার জন্য কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন দাসশর্মা বাড়ির সম্পত্তি ভাগ হয় সাথে কাজের ঝি ও ভাগ করে দেওয়া হয়। চিনি বউ তখন তার ডাক্তার ভাইকে বলে বনানী কে তার(ডাক্তার ভাই)  সাথে শহরে পাঠান।কিন্তু সেখানে ও বেশি দিন ঠাঁই হয়নি বনানীর।তারপর বনানীর কোথায় ঠাঁই হয়েছিল তা জানতে পড়ুন ‘সাঁতারু ও জলকন্যা

অলক মাঝে মাঝে সাঁতার কাটতে গিয়ে জলকন্যার দেখা পায়। সত্যি কি জলকন্যা আছে?  নাকি সব তার কল্পনা ।সাদামাটা কাহিনী নিয়ে একেবেকে এগিয়ে গিয়েছে উপন্যাসটি

 গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের রিভিউ পড়ুন

উপন্যাসটির(সাঁতারু ও জলকন্যা) বেশ কিছু জনপ্রিয় উক্তি নিচে দেওয়া হলো ‍

১) সুন্দরীদের আয়না লাগেনা, অন্যের চোখেই সে নিজেকে দেখতে পায়!

,২) পঞ্চাশ-ছোঁয়া বয়সটা বড় মারাত্মক, ভাঁটির টান যখন লাগে মানুষ ভোগসুখের জন্য পাগল হয়ে যায়, জানেতো আর বেশি সময় নেই হাতে, শরীরের ক্ষমতা আর বেশিদিন থাকবে না! ণত্ব ষত্ব জ্ঞান হারিয়ে তখন সে কেবল খাই খাই করে খাবলাতে থাকে চারপাশের ভোগ্যবস্তুকে, চুলে কলপ দেয়, রঙ চঙে জামা গায়ে চড়ায়, সেন্ট মাখে!আর স্ত্রী?স্ত্রীর করার কি বা থাকে, বিষচক্ষে দেখে যেতে হয়!দু’জনার মাঝে অসীম ব্যবধান তৈরি হয়!,

৩) সংসারের সম্পর্কগুলো এমন সব সূক্ষ্ম ভারসাম্যতার ওপরে নির্ভর করে যে একটা মাছি বসলেও পাল্লা কেৎরে যায়!

৪)আলাপ করতে একটা টিউনিং দরকার, টিউনিং না থাকলে কথা আসেনা!

,৫) যখন কোন মেয়ে দু’বেলা খাবার, মাথার ওপরে একটু ছাদ এর বেশি আরো কিছু আছে তা বুঝতে শিখে, তবেই তার ভেতরে জন্ম নেয় লজ্জা আর রোমাঞ্চ!

,৬) ব্যাধিময়, ব্যথাময়, নশ্বর এই শরীর নিয়ে মানুষের কত না ভাবনা, কিন্তু শরীরখানা দেওয়া হয়েছে এটাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য, বসিয়ে বা আরাম করার জন্য না!

,৭) অসুখ হওয়াটা বড় কথা না, তার’চে বড় কথা হল অসুখ অসুখ ভাবটা!,

৮) বাপ আর ছেলের মধ্যে যেমন জেনারেশন গ্যাপ থাকে, দাদা আর নাতীর মধ্যে তেমনটা থাকেনা! ছেলে আর বাপের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকে, দাদু আর নাতির মধ্যে তা নেই!প্রজন্মগত পার্থক্যটা বেশি হলে তাদের মধ্যে এক সমঝোতা গড়ে ওঠে!,

৯) বেঁচে থাকলে, শুধু বেঁচে থাকতে পারলে, কোন রকমে বেঁচে থাকলে জীবনে কত কি যে হয়! কত কি পাওয়া যায়!,

১০) জলের ঐশ্বর্যকে যেদিন আপনি আবিষ্কার করতে পারবেন, সেদিন ডাঙ্গাজমির ওপরকার এই বসবাস আপনার কাছে পানসে হয়ে যাবে!

,১১) শরীর অনেক বেশি রোগাটে হলে, দেখে বুঝা মুশকিল সে আসলে ফর্সা নাকি শ্যামলা!,১২) বেঁচে থাকতে পারে তারাই যাদের বেঁচে থাকাটা অন্যকেউ চায়, যাদের ভালবাসার লোক থাকে!

,১৩) এক এক সময় মানুষের কথা ফুরিয়ে যায়!,

১৪) নতুন বউ মাত্রই ভাল! কি যে অদ্ভুত নতুন বউয়ের গায়ের গন্ধ, মুখের লজ্জা রাঙা ভাব, মুখের হাসি!হাসি মুখে কথা বলে সবসময়!

,১৫) কারো আদর কাড়া কথা শুনলে, মরা মরা জীবনেও মাঝে মাঝে বাঁচার ইচ্ছে জাগে, অল্প আদর পেলেই মনেহয়, অনেকখানি পেয়ে গেলাম, আর বুঝি কিছু চাওয়ার নেই!,আপাতত এতটুকু, আর লিখতে ইচ্ছে করছেনা! ভাল লাগবে আশাকরি,

লেখক পরিচিত :

সাঁতারু ও জলকন্যা

তথ্য সূত্র : উইকিপিডিয়া

সমরেশ মজুমদারের জীবনী পড়ুন

মানবজমিন” উপন্যাস খ্যাত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বড়দের জন্য উপন্যাস সাঁতারু ও জলকন্যা।শীর্ষেন্দু ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ২রা নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।লেখকের আরো বিখ্যাত উপন্যাস গুলোর মধ্যে আছে পার্থিব,দূরবীন, যাও পাখি,গয়নার বাক্স।জনপ্রিয় এই লেখব মানবজমিন উপন্যাসের জন্য ১৯৮৮ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পান।

বই বিবরণ : 

  • লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
  • প্রকাশনী: আনন্দ পাবলিশার্সপ্রথম প্রকাশ: ১৯৯৩ সাল
  • ধরন: উপন্যাস
  • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮
  • দ্বিতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ : জানুয়ারি ২০১৬
  •  মূল্য :  ১৯০ (রকমারি মূল্য)

আরো জানতে আমাদের কন্ঠনীড়ে সাইটে থাকুন


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.