শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ( ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ – ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ ) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক […]

শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ( ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ – ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ ) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার । তিনি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক । তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে

বিভিন্ন রচনায় তাঁর বাস্তব-বাদী বাণী উঠে এসেছেI এখানে তাঁর কিছু বিখ্যাত  বাণী তুলে ধরা হলো-

  • এইবিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্তটাই পরিপূর্ণ সত্য । মিথ্যার অস্তিত্ব যদি কোথাও থাকে, তবে সে মনুষ্যের মন ছাড়া আর কোথাও না
  • মহত্ব জিনিসটা কোথাও ঝাঁকে ঝাঁকে থাকে না । তাকে সন্ধান করে খুঁজে নিতে হয়
  • যেদিন বুঝবে রুপটাও মানুষের ছায়া, মানুষ নয় – সেদিনই শুধু ভালোবাসার সন্ধান পাবে ।___চরিত্রহীন
  • মন্দ তো ভালো’র শত্রু নয়, ভালো’র শত্রু তাঁর চেয়েও যে আরও ভালো…সে। ___শেষ প্রশ্ন
  • মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে
  • রাজারা তাদের নামের আগে পিছে কতকগুলি নিরর্থক বাক্য নিয়ে শ্রী জুড়ে তবে অপরকে উচ্চারণ করতে দেয়; নইলে তাদের মর্যাদা নষ্ট হয়
  • যে দুঃখকে ভয়… তারই দিয়ে আবার তারও চেয়ে বড় আদর্শ জন্মলাভ করবে; আবার তারও যেদিন কাজ শেষ হবে, মৃতদেহের সার থেকে তার চেয়েও মহত্তর আদর্শের সৃষ্টি হবে, এমনি করেই সংসারে শুভ শুভতরের পায়ে আত্মবিসর্জন দিয়ে আপন ঋণ পরিশোধ করে I এই তো মানুষের মুক্তির পথ…।___শেষ প্রশ্ন
শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি

  • বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলে দেয় 
  • শ্রদ্ধা ও স্নেহের অভিনন্দন মন দিয়ে গ্রহণ করতে হয়, তার জবাব দিতে নেই
  • সমাজের মধ্যে যাকে গৌরব দিতে পারা যায় না, তাকে কেবলমাত্র প্রেমের দ্বারাই সূখী করা যায় না । মর্যাদাহীন প্রেমের ভার আলগা দিলেই দুর্বিষহ হইয়া উঠে।  ___হরিদাস শাদ্রীকে লেখা চিঠি থেকে সংগৃহীত
  • সংসারে অনেক ঘটনার মধ্যে বিবাহটাও একটা ঘটনা, তার বেশি নয়; ওটাকেই নারীর সর্বস্ব বলে যেদিন মেনে নিয়েছেন, সেদিনই শুরু হয়েছে মেয়েদের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি । …চাটুকারের নানা অলংকারের গায়ে জড়িয়ে দিয়ে যারা প্রচার করেছিল মাতৃত্বের নারীর চরম স্বার্থকথা, সমস্ত নারীজাতিকে তারা বঞ্চনা করেছিল ।___শেষ প্রশ্ন
  • তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ, তোমরা দেশের গুণী ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদিগকে সর্বদা সম্মান দিতে কোনদিন যেন কার্পণ্য না করো ।এই কথাটা সবসময় মনে রেখো যে, এতে কেবল তাহাদিগকে সম্মান করা হয় মাত্র নয়,পরন্ত এইরুপ সম্মান প্রদর্শনে দেশের ব্যক্তিদিগের গুণের সমাদর করা হয় I আর দেশবাসীকে তাঁহার গুণ সম্বন্ধে সচেতন করবার সুযোগ ঘটায়  ।____ 52 তম জন্মদিনে স্কটিশ চার্চ কলেজে প্রদত্ত ভাষণ হতে সংগৃহীত
  • আত্মরক্ষার ছলেও মানুষের অসম্মান করা আমার ধাতে পোষায় না,, দেখো না লোকে বলে আমি পতিতাদের সমর্থন করি I সমর্থন আমি করিনে, শুধু অপমান করতেই মন চায় না Iবলি, তাঁরাও মানুষ, তাঁদের নালিশ করতে মন চায় না I বলি, তাঁরাও মানুষ, তাঁদের নালিশ জানাবার অধিকার আছে, এবং মহাকালের দরবারে এদের বিচারের দাবী একদিন তোলা রইলো
  • বুঝি, ছোঁয়াছুঁয়ি-আচার-বিচারের অর্থ নেই, তবুও মেনে চলি; বুঝি, জাতিভেদ মহা অকল্যাণকর । তবুও নিজের আচরণে তাঁকে প্রকাশ করিনে । বুঝি ও বলি, বিধবা বিবাহ উচিত । তবুও নিজের জীবনে তাকে প্রত্যাহার করি । জানি খদ্দর পরা উচিত, তবু বিলাতি কাপড় পরি । একেই বলি আমি অসত্যাচার । _____সত্যাশ্রয়ী বিবিধ প্রবন্ধ বই থেকে সংগৃহীত
  • ভাল-কে ভাল মন্দ-কে মন্দ বলায় কোনো art-ই কোনোদিন আপত্তি করে না ।কিন্তু দুনিয়ায় যা কিছু সত্য ঘটে নির্বিচারে তাকেই সাহিত্যের উপকরণ করলে সত্য হতে পারে, কিন্তু সত্য-সাহিত্য হয় না । 
  • যারা আপনার মুখের অন্ন-পরনের বসন জোগায়, সেই হতভাগা দরিদ্রের এইসব গ্রামেই বাস। তাহাদিগকে দু’পায়ে থেঁৎলে থেঁৎলে  আপনাদের উপরে ওঠার সিঁড়ি তৈরি হয় ।    ____পণ্ডিতমশাই উপন্যাস
শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি

  • সংসারে সকল বড় কার্যই কাহারো না কাহারো ক্ষতিকর হয়; যাহারা এই কার্যাভার স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেন, তাঁহারা অনেকের মঙ্গলের জন্য সামান্য ক্ষতিতে ভ্রুক্ষেপ করিবার অবসর পান না । সেইজন্য অনেক স্থলেই তাঁহারা নির্দয়নিষ্ঠুরবলিয়া জগতে প্রচারিত হন
  • তিক্ততার মধ্য দিয়ে সংসার ছেড়ে শুধু হতভাগ্য লক্ষীছাড়া জীবনই যাপন করা চলে, কিন্তু বৈরাগ্য সাধন হয় না
  • যাহার প্রাসাদতুল্য অট্টালিকা নদীগর্ভে ভাঙ্গিয়া পড়িতেছে, সে আর খান কতক ইট বাঁচাইবার জন্য নদীর সহিত কলহ করিতে চাহে না
  • সমস্ত রমণীর অন্তরে নারী বাস করে কিনা তাহা জোর করিয়া বলা অত্যন্ত দুঃসাহসের কাজ । কিন্তু নারীর চরম সার্থকতা যে মাতৃত্বে এ-কথা বোধ করি গলা বড় করিয়াই প্রচার করা যায়
শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি
শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি
  • বনের পাখির চেয়ে পিঞ্জরের পাখিটাই বেশি ছটফট করে
  • ভালো বক্তার কাছে জনতা যুক্তি-তর্ক চাহে না, যাহা মন্দ তাহা কেন । মন্দ এ খবরে তাহাদের আবশ্যক হয় না । শুধু মন্দ যে কত মন্দ অসংখ্য বিশেষণ যোগে ইহাই শুনিয়া তাহারা চরিতার্থ হইয়া যায়
  • যেখানে ফেলে যাওয়াই মঙ্গল, সেখানে আঁকড়ে থাকাতেই অকল্যাণ
  • লোকে বলে, এই তো দুনিয়া!এমনি ভাবেই তো সংসারের সকল কাজ চিরদিন হইয়া আসিতেছে । কিন্তু এই কি যুক্তি! পৃথিবী কি শুধু অতীতের জন্য, মানুষ কি কেবল তাহার পুরাতন সংস্কার লইয়া অচল হইয়া থাকিবে!নূতন কিছু কি সে কল্পনা করিবে না! উন্নতি করা কি তাহার শেষ হইয়া……
  • যাকে-তাকে গছিয়ে দেওয়ার নামই বিবাহ নয় !  মনের মিল না হলে বিবাহ করাই ভুল
  • অতীত মুছে ফেলার শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে  স্থান পালটানো
  • সৃষ্টির কালই হল যৌবনকাল
  • পক্ষপাতহীন বিচারকই ন্যায় বিচার করতে পারে
  • টিকিয়া থাকাই চরম স্বার্থকতা নয়, এহেন অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে
  • দ্বীপের যে অংশটা শিখা হইয়া লোকের চোখে পড়ে, তাহার জ্বলার ব্যপারে কেবল সেইটুকুই সমস্ত ইতিহাস নহে
  • যে সমাজে কেবলমাত্র পুত্রার্থের ভার্যা গ্রহণের বিধি আছে….তাকে তো আমি শ্রদ্ধার চোখে দেখতে পারিনে….সতীত্ব তো শুধু দেহেই পর্যবসিত নয়,…মনেরও তো দরকার….কায়মনে ভালবাসতে না পারলে তো ওর উচ্চস্তরে পৌঁছানো যায় না I মন্ত্র পড়ে বিয়ে দিলেই যেকোনো মেয়ে যেকোনো পুরুষকে ভালবাসতে পারে ?এ কি পুকুরের জল যে, যেকোনো পাত্রে ঢেলে মুখ বন্ধ করে দিলেই কাজ চলে যাবে ?


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.