• Home
  • রিভিউ
  • রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি

“সমস্ত রহস্য আর অব্যাখ্যাত ব্যাপারগুলো আসলে সাময়িক বিভ্রাম,অজ্ঞানতা।এক সময় রহস্য বের করে ঠিকই সত্য জানা যায়।”    _মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন  থ্রিলার …
রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি
রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি

“সমস্ত রহস্য আর অব্যাখ্যাত ব্যাপারগুলো আসলে সাময়িক বিভ্রাম,অজ্ঞানতা।এক সময় রহস্য বের করে ঠিকই সত্য জানা যায়।”

   _মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন 

থ্রিলার সম্রাট খ্যাত মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের লিখা “রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি” ।বইটির নাম শুনে মনে হতে পারে নিশ্চয় বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখনে খেতে আসেন নি কেন?  তা নিয়ে লিখা হয়েছে তবে পাঠকের এই ধারনা সঠিক নাকি ভুল তা বইটি পড়ার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে।

“রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি ” বইয়ের প্রধান চরিত্র 

  • ১. নূরে ছফা ( ডিবি ইইনভেস্টিগেটর) 
  • ২.মুশকান জুবেরি (রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি  রেস্টুরেন্টের মালিক)
  • ৩.আতর আলী (সুন্দরপুর থানার ইনফর্মার)
  • ৪. ফালু ( গোর খোদক)
  • ৫.মাস্টার সাহেব (রামাকান্তকুমার)
  • ৬.রহমান মিয়া 
  • ৭.কে.এস খান (সাবেক ইনভেস্টিগেটর) 

গল্পপ্রসঙ্গ 

সুন্দরপুর মফশ্বল শহরটি নামের সাথে খুব একটা অমিল তা বলা যাবে না।প্রকৃতির শোভা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। একেবারে কিছু নেই যে তা না এই ছোট মফশ্বল শহরে রাস্তার পাশে এক বিশাল রেস্তোরাঁ  আছে। বড় রাস্তার পাশেই একতলা একটি বাংলোতে গড়ে উঠেছে এই রেস্তোরাঁ।  আর উপরে সাইনবোর্ডে লিখা “রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি”। কেন আসেন নি তার থেকে বড় প্রশ্ন এখানে কেন সবাই দূর দূরান্ত থেকে খেতে আসে। 

সাঁতারু ও জলকন্যা ( শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়)

“রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি ” এই রেস্তোরাঁ অপর দিকে ছোট্ট চা –সিগারেট টঙ দোকান রহমান মিয়ার। সবাই রবীন্দ্রনাথ থেকে বের হয়ে তার দোকানে চা সিগারেট খায়।যদিও সে রবীন্দ্রনাথ রেস্তোরাঁ’র মালিক মুশকান জুবেরি কে খুব একটা পছন্দ করেন না।প্রতিদিনের মতো আজ ও তিনি দোকানে বসে আছে তার নতুন কাস্টমার দেখলে আনন্দ হয় কিন্তু তার সামনে সে কাস্টমার এসেছে তা দেখে খুব বিরক্ত হলেন কিন্তু তা প্রকাশ করলেন সে কারন আতর আলি পুলিশের ইনফর্মার। সেদিন নূরে ছফা নামের এক অপরিচিত লোক এসে রহমান মিয়া র দোকানে বসে এবং তিনি আতর আলীকে জানায় তিনি শহরের খুব নামকরা এক পত্রিকার সাংবাদিক। এখানে এসেছেন এই রেস্তোরাঁ  ও রেস্তোরাঁর মালিক মুশকান জুবেরি সম্পর্কে একটি আর্টিকেল লিখতে। আতর আলী যেনো এ বিষয়ে তাকে সাহায্য করে তার বিনিময়ে তিনি  আতর আলী কে অনেক টাকা দিবেন।পুলিশের ইনফর্মার টাকার লোভে রাজি হয়ে যায় এবং সে কাজে নেমে পড়ে।

রিভিউ — গয়নার বাক্স (শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়)

আতর আলী তাকে জানায়, মুশকান জুবেরি হঠাৎ একদিন শহর থেকে এসে জমিদার বাড়ি দখল করে নেয়। মুশকান জুবেরি  এ শহরে এমপি,ওসি সবাইকে তার হাতের মুঠোয় করে নিয়েছে।হঠাৎ এক সন্ধ্যায় আতর আলী আসে নূরে ছফার কাছে আর বলে মুশকান জুবেরি সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবেন রামাকান্তকুমার (প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক)। তারা প্রাক্তন স্কুল শিক্ষকের বাড়ি যায় এবং নান রকম চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় নূরে ছফা।আর ফেরার পথে আতর আলী মুশকান জুবেরি জমিদার বাড়ির বর্ণনা এবং সে আরো জানায় জমিদার বাড়িতে দুই জন কাজের লোক আর মুশকান জুবেরি থাকে।আর সে (আতর আলী)কথা প্রসঙ্গে বলে মুশকান জুবেরি একটা ডাইনি।

তাকে ভালোবেসে-বুক রিভিউ

তিনি মানুষের রক্ত খায় আতর আলী নিজ চোখে দেখেছে। যদিও নূরে ছফা সেটা বিশ্বাস করে নি কিন্তু তার মনে মুশকান জুবেরি সম্পর্কে কৌতুহল দেখা দেয়।তিনি সে রাতে মুশকান জুবেরি জমিদার বাড়িতে দেয়াল টপকে ভেতরে চলে যায় এবং বেশ অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হয়, মুশকান জুবেরি ও সুন্দরপুরের গোরখোদক ফালু কোনো কিছু দাফন করছিলো, বাড়ির পিছনে কুমির চাষ করা এবং মুশকান জুবেরি তাকে দেখে ফেলার পরেও কিছু করেনি।সে আতর আলীর সাহায্যে জমিদার বাড়ি থেকে পালাতে সক্ষম হয়।

কিন্তু পরের দিন সুন্দরপুর থানার ওসি তাকে ডেকে পাঠায় এবং সে যে ভুয়া সাংবাদিক তা প্রমান পায়। কিন্তু তারপরেও সুন্দরপুরের ওসি জানতে পারে নূরে ছফা সাধারণ কেউ না।তিনি ডিবি এখন ইনভেস্টিগেটর। তারপরে নূরে ছফা নামে  নতুন এক অভিযানে 

মুশকান জুবেরি আসলে কে? 

গোরখোদক ফালু সেদিন কি দাফন করছিলো?

রবীন্দ্রনাথ রেস্তোরাঁ এসে ৫ জন ব্যক্তি আর ফিরে যায় নি তাদের সাথে কি হয়েছিলো?

আর কেন এখানে ডাক্তারি পেশা ছেড়ে মুশকান জুবেরি এসেছিলো কি তার উদেশ্য?  

ডিবি ইনভেস্টিগেটর কি পারবে সব প্রশ্নের উত্তর বের করতে? নাকি কখনো কোনো কেস ব্যর্থ না হওয়া নূরে ছফা এবার হেরে যাবে?

▪️বকুল ফুল (রিভিউ)

লেখক পরিচিত

মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন
মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয়তম থ্রিলার লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা ইন্সটিটিউটে এক বছর অধ্যায়ন করলেও পরে গণনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পূর্ন করেন তিনি। প্রথম মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস নেমেসিস বিপুল জনপ্রিয়তা পায়,ফলে এর সিকুয়েল কন্ট্রাক্ট, নেক্সাস, কনফেশন এবং প্রিকুয়েল করাচি লিখেন।এছাড়া  জাল,১৯৫২ নিছক কোনো সংখ্যা নয়,কেউ কেউ কথা রাখে,পেন্ডুলাম ইত্যাদি এখন পর্যন্ত তার জনপ্রিয় উপন্যাস। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন তার অভিনব চরিত্র আর ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে এসেছেন  তার ” রবীন্দ্রনাথ ট্রিলজির ” প্রথম উপন্যাস “রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি “। নামের মতো সুন্দর উপন্যাস টি দুই বাংলার পাঠকচিত্ত জয় করেছেন। এই উপন্যাস থেকে ভারত থেকে নির্মিত হচ্ছে ওয়েব সিরিজ। 

জাহানারা ইমাম (৩ মে ১৯২৯ – ২৬ জুন ১৯৯৪)

আহমদ ছফার জীবনী

ট্রিলজির দ্বিতীয় খন্ড ” রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও আসেননি” এবং শেষ খন্ড “রবীন্দ্রনাথ এখানে এসেছিলেন” প্রকাশিত হবে ২০২১ সালে।

বই বিবরণ :

বাতিঘর প্রকাশনী

প্রচ্ছদ : সিরাজুল ইসলাম নিউটন 

স্বত্ত্ব    : © ২০১৫ লেখক 

মূল্য    : তিনশত চল্লিশ টাকা মাত্র ( বইয়ের মূল্য)

পৃষ্ঠা    :  ২৭০

 

আপনি কী এমন আরও বুক রিভিউ পড়তে চান,তাহলে কন্ঠনীড়ের সঙ্গেই থাকুন।


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.