রিভিউ :মৈমনসিংহ গীতিকা

মৈমনসিংহ গীতিকা মৈমনসিংহ গীতিকা বইটি আমার পড়ার ইচ্ছে হয় ‘মৈমনসিংহ’ নামটা দেখে।যদিও পালাগুলো পুর্ব ময়মনসিংহের । তারপর মহুয়া দৃশ্যকাব্যটি পড়ে […]

মৈমনসিংহ গীতিকা

মৈমনসিংহ গীতিকা বইটি আমার পড়ার ইচ্ছে হয় ‘মৈমনসিংহ’ নামটা দেখে।যদিও পালাগুলো পুর্ব ময়মনসিংহের । তারপর মহুয়া দৃশ্যকাব্যটি পড়ে যখন জানতে পারি বইটি আমার সবচেয়ে পছন্দের ভাষায় লেখা তখন আর লোভ সামলাতে পারিনি। রাবেয়া বুকস থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে মোট তিনটি পালা আছে। মহুয়া, মলুয়া এবং দেওয়ানা মদিনা।তবে এই বইয়ের আর একটি আকর্ষনীয় দিক হচ্ছে শ্রী দিনেশচন্দ্র সেন এর ভূমিকা।

মৈমনসিংহ গীতিকা

মহুয়াঃ প্রায় ৩০০ বছর আগে এই পালাটি রচনা করেন কবি দ্বিজ কানাই। একসময় প্রবাদ ছিল, কবি দ্বিজ কানাই কোনো এক সুন্দরীর প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এই গান রচনা করেন। এই পালাটি মহুয়া সুন্দরী ও ঠাকুর নদের চাঁদের করুণ প্রেম কাহিনী নিয়ে রচিত।
হুমরা বেদে নামে একজন ডাকাতের সর্দার একবার কাঞ্চনপুর গ্রাম থেকে ব্রাহ্মণ পিতার ছয় মাসের কণ্যা মহুয়াকে চুরি করে। কিন্তু সে মহুয়ার কোনো ক্ষতি না করে নিজের সন্তানের মতো বড় করে।মহুয়া সুন্দরীকে নিয়ে তারা একবার গেল বামনকান্দা গ্রামে ঠাকুর নদের চাঁদের বাড়িতে।সেখানেই মহুয়ার প্রেমে পড়ে নদের চাঁদ। নদের চাঁদের ভালোবাসায় মহুয়াও উন্মত্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু হুমরা বেদে তার দলবল নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। নদের চাঁদও মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে মহুয়ার খোঁজে বের হয়। এরপর শুরু হয় নদের চাঁদ ও মহুয়ার ভালোবাসার সংগ্রাম। শেষ অবধি তাদের মিলন হয় কিনা তা জানতে হলে যে এই পালাটি পড়তে হবে!!

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর উক্তি

মলুয়াঃএই পালাটি রচিত হয়েছে গায়ের মোরল হীরাধরের একমাত্র মেয়ে মলুয়া ‘র জীবনকাহিনী নিয়ে। যে প্রেমে পড়ে কুড়া শিকারে আসা চাঁদ বিনোদের। স্নানের ঘাটে পরিচয় হয় মলুয়ার সাথে চাঁদ বিনোদের। একদিন বিনোদকে নিমন্ত্রণ করে মলুয়া। মলুয়ার পাঁচ ভাই বিনোদের অনেক যত্ন করে । বাড়ি ফিরে বিনোদ তার বোনকে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয় যে সে মলুয়াকে বিয়ে করতে চায়। এদিকে মলুয়ারও বিয়ের বয়েস হয়ে গেছে। বিনোদের মা মলুয়ার বাড়িতে ঘটক পাঠালে হীরাধর ঘটককে ফেরত পাঠায়। এতে বিনোদ কষ্ট পেয়ে আবার বিদেশে যায় কুড়া শিকার করতে। কুড়া শিকার করে বিনোদ জমি-বাড়ি পায়। এরপর হীরাধর নিজে মলুয়াকে বিনোদের সাথে বিয়ে দিল। কিন্তু তাদের সুখের সংসারে দুঃখ বয়ে আনে দুষ্ট কাজী। মলুয়াকে ভোগ করার ইচ্ছে জাগল কাজীর মনে। কিন্তু সতী লক্ষি মলুয়া তাতে রাজি না হলে বিনা অপরাধে তাদের ভিটে-মাটি কেড়ে নেয় কাজী। এভাবেই চলতে থাকে কাজীর একের পর এক ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের হাত থেকে বের হওয়ার পথে কি সবাইকে পাশে পায় মলুয়া নাকি প্রাণ দিতে হয় সতী-লক্ষি মলুয়াকে সেটা আমি বলব না।তার জন্য পড়তে হবে বইটি।

goodreads

দেওয়ানা মদিনাঃ এই সেই মদিনার জীবননাট্টের কাহিনী যার রূপে স্বয়ং মুগ্ধ হয়েছিলেন ‘রোমাঁ রোলাঁ’। দেওয়ান সেকেন্দারের অপরূপ সুন্দরী কন্যা মদিনা।সৎ মায়ের অত্যাচারে গৃহত্যাগি আলালের সাথে দেওয়ান সেকেন্দার বিয়ে দেয় তার। তাদের ভালোবাসার ধন পুত্র সুরুজ। তবে একদিন আলালের ভাই দুলাল এসে ভেঙ্গে দেয় তাদের সুখের সংসার। দুলাল, আলালকে আবার বাড়িতে ফেরত নিয়ে যায় এবং মদিনাকে তালাকনামা পাঠায়। মদিনার ছিল স্বামীর ভালোবাসায় অসম্ভব বিশ্বাস। তালাকনামা পেয়েও সে আলালকে অবিশ্বাস করেনি। কিন্তু যেদিন সে তার স্বামীর বিবাহের খবর পেল সেদিনই সে মৃত্যুশয্যাশায়ী হলো। যে শয্যা থেকে আর কেউ তাকে ফেরাতে পারেনি।এই পালা সম্পর্কে দিনেশচন্দ্র সেন যথার্থই বলেছেন-
“ তাহার অপূর্ব সংযম,যাহাতে এরূপ কৃতঘ্নতায়ও স্বামীর বিরুদ্ধে একটি কথা সে বলিতে পারিল না,এই অপূর্ব প্রেম ও চিত্তসংযম কোন উচ্চ লোকের,পাঠক তাহা ধারণা করুন। চাষার চাষায় চাষার লেখা বলিয়া অবজ্ঞা করিবেন না।“

  • পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ আমি সাধারণত রোম্যান্টিক জনরার বই বেশি পড়ি।যারা রোম্যান্টিক জনরার বই বেশি পড়ে, আমার মনে হয় তাদের জন্য মৈমনসিংহ গীতিকা একটি মাস্ট রিড বই। এছাড়াও ময়মনসিংহের ভাষার প্রতি আমার একটা অন্যরকম টান আছে।তাই ভাষার দিক থেকেও বইটা আমার কাছে সেরা


বই পরিচিতি


বইঃ মৈমনসিংহ গীতিকা
সম্পাদকঃ শ্রী দীনেশ্চন্দ্র সেন
প্রকাশনীঃ রাবেয়া বুকস
প্রকাশকালঃ আগস্ট ২০১৭
প্রচ্ছদঃ আক্কাস খান
মুল্যঃ১৭৫ টাকা

🖋️সুমাইয়া শেফা

আরো জানতে আমাদের কন্ঠনীড়ে সাইটে থাকুন


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.