• Home
  • ব্লগ
  • বাংলাসাহিত্যের কালজয়ী উপন্যাস তুলে ধরা হলো — পর্ব ১

বাংলাসাহিত্যের কালজয়ী উপন্যাস তুলে ধরা হলো — পর্ব ১

বাংলাসাহিত্যের কালজয়ী আমরা খুব নগন্য পাঠক। কালজয়ী সাহিত্যে নিয়ে আলোচনা করার দুঃসাহস দেখিয়েছি মাত্র। ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন। বাংলা সাহিত্যকে […]

বাংলাসাহিত্যের কালজয়ী

আমরা খুব নগন্য পাঠক। কালজয়ী সাহিত্যে নিয়ে আলোচনা করার দুঃসাহস দেখিয়েছি মাত্র। ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন। বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধি করছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ,  মানিক বন্দোপধ্যায়, বিভূতিভূষণ,  সূনীল গাঙ্গুলীর মতো কিছু কালজয়ী লেখক। বিভিন্ন সময়ে তারা ছোট গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া দিয়ে বাংলা সাহিত্য কে আলোকিত করে তুলেছেন। বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী লিখা এটি আমাদের প্রথম অংশ।  আমরা পরবর্তী কন্টেন্ট গুলোতে বাকি সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করবো।

★★ কপালকুন্ডলাঃ বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ২য় উপন্যাস কপালকুন্ডলা প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।

জনমানব শূন্য দ্বীপে কাপালিকের কাছে বড় হওয়া কপালকুন্ডলার জীবনের সাথে আকস্মিক ভাবে নবকুমারের জীবন জড়িয়ে যাওয়া এবং তাদের জীবনকে ঘিরেই লেখক  গড়ে তুলেছেন এই উপন্যাসটি।

★★ট্রিলজি -পথের পাঁচালি, অপরাজিত, অপুর সংসারঃ 

বাংলাসাহিত্যের  কালজয়ী
বাংলাসাহিত্যের কালজয়ী

পথের পাঁচালি– বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা পথের পাঁচালি উপন্যাসটি মূলত গ্রামীণ পরিবেশে অপু এবং দুর্গা নামের দুই ভাই বোনের বেড়ে ওঠা নিয়ে।এছাড়াও উপন্যাসটিতে লেখক তুলে ধরেছেন আর্থিক দৈন্যতাসহ সাংসারিক জীবনের বেশ কয়েকটি দিক।এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

অপরাজিত– পথের পাঁচালি এর পরের অংশ অপরাজিত।এটিতে মূলত অপুর জীবনের কাহিনীকে সম্প্রসারণ করেছেন লেখক।

অপুর সংসারঃ অপরাজিত প্রকাশের পর অপুর জীবননাট্যকে আর এগিয়ে নিজে যাওয়ার সুযোগ পাননি 

★★চিলেকোঠার সেপাইঃ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর প্রথম উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।বইটি রচিত হয়েছে উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানকে নিয়ে।

★★পদ্মা নদীর মাঝিঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।

উপন্যাসটি লেখা হয়েছে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবনকাহিনী নিয়ে।

★★ পুতুল নাচের ইতিকথাঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।এটি তার লেখা ৩য় উপন্যাস।

বইটি মূলত সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে।

★★তিতাস একটি নদীর নামঃ ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় অদ্বৈত মল্লবর্মণ এর লেখা তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটি।এই বইটি লিখে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

বইটিতে লেখক গ্রামীণ মলো শ্রেণির মানুষজনের জীবনের করুণ দশা ফুটিয়ে তুলেছেন।

★★ মৃত্যু ক্ষুধাঃ  কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুক্ষুধা বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।

লেখক এই বইটিতে তখনকার মানুষজনের জীবনে দারিদ্র্যের তারোণার দিকটি তুলে ধরেছেন।

★★ একাত্তরের দিনগুলোঃ

বাংলাসাহিত্যের  কালজয়ী

জাহানারা ইমামের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বই একাত্তরের দিনগুলি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জাহানারা ইমাম এই বইটি দিনলিপি আকারে লিখেছিলেন।পরে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

★★ মেমসাহেবঃ নিমাই ভট্টাচার্যের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস মেমসাহেব।এটি একটি রোম্যান্টিক জনরার বই।

★★শেষের কবিতাঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুল জনপ্রিয় উপন্যাস শেষের কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৮ সালে।এটি একটি রোম্যান্টিক জনরার বই।লাবণ্য এবং অমিতের প্রেমকাহিনীর সাথে সাথে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে বইটিতে।

শেষের কবিতা বইয়ের রিভিউ পড়তে ক্লিক করুন।

★★খোয়াব নামাঃ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস খোয়াব নামা প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে।

সিপাহি বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দলন এবং বঙ্গভঙ্গ এর পটভুমিতে রচিত হয়েছে এই উপন্যাসটি।

★★সংশপ্তকঃ শহিদুল্লাহ কায়সারের সংশপ্তক উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।

★★জননীঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আর শওকত ওসমান দুইজনই এই নামে বই লিখছে আর দুইটাই ফেমাস!এটা তুমি লিখে নিও।

★★ আরন্যকঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর আরণ্যক উপন্যাসটি প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।

বইটির নাম দেখেই বোঝা যায় যে এতে প্রকৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু লেখা হয়েছে!

★★কাঁদো নদী কাঁদোঃ সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ এর কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

তবারক ভুঁইয়া বলে একজন স্টিমারযাত্রীর ব্যাখ্যায় কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার  জীবনের ইতিকথা এই বইয়ের পটভুমি।

★★ট্রিলজি ( সেই সময়,প্রথম আলো, পূর্ব- পশ্চিম)

 সেই সময়– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত সেই সময় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে।

এই বইয়ের পটভুমি হচ্ছে উনবিংশ শতাব্দির বৃটিশ শাসক কালে কলতাকার অবস্থা কীরূপ ছিল।

প্রথম আলো-এটি বাংলায় প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।সেই সময় বইয়ের পরের অংশ এই বইটি।

পুর্ব পশ্চিম এই ট্রিলজির শেষ খন্ড এটি।এটিতে ১৯৪৭ সালে দেশের  অবস্থা এবং নকশাল আন্দলন, দেশ ত্যাগ ইত্যাদি বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে।

★★লোটাকম্বলঃ  সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এর লোটাকম্বল বইটি দুই খন্ডের একত্রে সংস্করণ বের হয় ২০০৯ সালে।এর আগে দুটি আলাদা খন্ডে প্রকাশিত হয় বইটি।

বইটিতে সাংসারিক জীবন এবং বিভিন্ন দিকের মিল্যবোধ তুলে ধরেছেন লেখক।

★★নন্দিত নরকেঃ হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে।একটি মধ্যবিত্ত পরিবার এবং সেই পরিবারের সকলের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন লেখক।বিভিন্ন সামাজিক এবং বাস্তব দিকও তুলে ধরেছেন।

★★ সূর্য দীঘল বাড়িঃ আবু ইসহাক এর লেখা সুর্য দীঘল বাড়ি উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।

★★ হাজার বছর ধরেঃ জহির রায়হানের লেখা হাজার বছর ধরে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে।

★★ কবিঃ তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় এর কবি উপন্যাসটি লেখা হয়েছে তৎকালীন সময়ের কবি গান করা এক যুবকের জীবন কাহিনী নিয়ে।এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।এটি একটি সামাজিক উপন্যাস।

★★লালসালুঃ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর লালসালু উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।

১৯৪০-১৯৫০ দশকের দিকে বাংলাদেশের  গ্রামীণ সমাজের সহজ সরল মানুষদের ঠকিয়ে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানে রূপান্তর করা হয়েছিল -সেই বিষয়টিকে ধারণ করে এই বইটি লেখা হয়েছে।

★★ পথের দাবীঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পথের দাবি উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বার্মায় অবস্থানরত এক বাঙালির বিদ্রোহ এবং তার সমযোদ্ধাদের লড়াইয়ের কাহিনীই এই বইয়ের মূল বিষয়। বইটি ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

★★ পার্থিবঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ারের পার্থিব উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।

★★ নৌকাডুবিঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৬ সালে।

এটি একটি সামাজিক এবং রোম্যান্টিক জনরার বই।নৌকাডুবির মধ্যে দিয়ে কীভাবে বইয়ের নায়ক নায়িকাদের জীবনের মোড় ঘুরে যায় তাই মুলত এই বইয়ের মূল উপজীব্য। এছাড়াও ফুটে উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক দিক।

আরো জানতে আমাদের কন্ঠনীড়ে সাইটে থাকুন


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.