দৃষ্টি প্রদীপ (রিভিউ)

রিভিউ: দৃষ্টি প্রদীপ বিভূতিবাবুর লেখা পড়ার সময় সবার আগে যে কথাটা মাথায় আসে সেটা হলো,এই বিভূতিবাবুর মতো করে যদি সবকিছু […]

রিভিউ: দৃষ্টি প্রদীপ

বিভূতিবাবুর লেখা পড়ার সময় সবার আগে যে কথাটা মাথায় আসে সেটা হলো,এই বিভূতিবাবুর মতো করে যদি সবকিছু দেখতে পারতাম তাহলে বোধয় ক্যামেরার খুব বড় প্রয়োজন হতো না-ছেলেমানুষী চিন্তাভাবনা!

এত সুন্দর আর স্পষ্ট বর্ণনা কজন দিতে পারেন? পড়তে পড়তে মনে হয় আমি এই বাংলার উত্তরাঞ্চলে নই, আছি জিতুদের চা বাগানে।আবার যখন তারা চাবাগান ছেড়ে চলে আসে বাংলাদেশে,জ্যাঠামশাইদের বাড়িতে তখন মনে হয় ছোট্ট জরাজীর্ণ ঘরটাতেই বসে আছি যেন।মালতীদের আখড়া,সেও কী সৌন্দর্যের দিক দিয়ে পিছিয়ে নাকি?আখড়ার বিষ্ণুমন্দির,পুকুরঘাট সবকিছুই বিভূতিবাবুর কলমের( নাকি দোয়াত কালি?) ছোয়ায় যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে!

“আহারে!”

দৃষ্টি প্রদীপ
দৃষ্টি প্রদীপ

এই একটা শব্দ বারবার নিজের অজান্তেই মুখে আসে। সে আত্মা শান্তি করা কোনো মুহূর্তেই হোক বা গভীর বেদনার মুহূর্তেই হোক।সীতার বুকে চাপা থাকা গুমোট কান্না,মায়ের দিশাহারা দশা,চা বাগানের সেই আনন্দমাখা দিন! আহারে!!

এই দেখো,আসল চরিত্রেই নামই তো নিলাম না।জিতু- যার চোখ দিয়ে সেই চাবাগান থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বাড়ির দাম্ভিক আর কুসংস্কারাচ্ছন্ন জ্যাঠাইমা,কলকাতার মাতৃসুলভ শৈলদি,যৌবনের প্রথম রমনী ছোটবৌঠাকরুন,আখড়ার নিষ্পাপ মালতী,কালীগঞ্জের সরল বৌদিকে দেখতে পায় পাঠক। আর?আছে আরেকজন।এই শেষ আরেকজনের কথা নাহয় না-ই বললাম।পাঠক যখন বইখানা পড়বেন তখন আবিষ্কার করবেন এই আরেকজনকে!

এবার তো আমাদের ‘দৃষ্টি প্রদীপ’ এর নায়ক জিতুর দৃষ্টির কথা খানিকটা বলতেই  হয়।এ ছেলে আমাদের দেখা আর সকল ছেলেদের মতো শুধু দুটি নয়ন দিয়েই দেখে না যে,এ ছেলে দেখে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে!কিন্তু এই দৃষ্টিশক্তি, জীবনের টানাপোড়েন কী আর এর কদর বোঝে? এই ক্ষমতা ধরে রাখতেই জনম যাবে বুঝি ছেলেটার!আহারে!

লেখক পরিচিতিঃ

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রন্থতালিকা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ভারতীয় লেখক। ১২ সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ সালে ভারতের চব্বিশ পরগণা জেলার মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত এই কথাসাহিত্যিক। শরৎচন্দ্রের পরে  বাংলা কথাসাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান দখল করে নিয়েছেন তিনি।তিনি গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনকে ফুটিয়ে তুলেছেন অসাধারণ ভাবে। তার লেখনশৈলীতে খুঁজে পাওয়া যায় বাংলার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি। পথের পাঁচালি, চাঁদের পাহাড়ের মত অনবদ্য সব উপন্যাস রচনা করেছেন তিনি। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় একাধারে উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী এবং দিনলিপি লেখার মাধ্যমে বাংলা কথাসাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

রিভিউ : আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক

বইয়ে থাকা পছন্দের কিছু লাইনঃ

  • ধর্মের দেশকাল নেই,মহাপুরুষদের জাত নেই।
  • পুরুষমানুষ প্রেমের ব্যাপারে আত্মরক্ষা করে চলতে পারে না যা অনেক সময় মেয়েরা পারে।যেখানে যা হবার নয়,পাবার নয় সেখানেই তারা বোকার মতো ধরা দিয়ে বসে থাকে।এবং নাকাল  তার জন্যে যথেষ্ট হয়।কিন্তু পুরুষমানুষই আবার বেগতিক বুঝলে যতসত্বর হাবুডুবু খেতে খেতেও সাঁতরে তীরের কাছে আসতে পারে।মেয়েরা গভীর জ্বলে একবার গিয়ে পড়লে অত সহজে নিজেদের সামলে উঠতে পারে না।
  • প্রেম আসে সামান্য খুঁটিনাটি সুত্র ধরে।বড় বড় ঘটনাকে এড়ানো সম্ভব কিন্তু ছোট জিনিস প্রাণে গেঁথে থাকে।

বই পরিচিতি

বইঃ দৃষ্টি প্রদীপ

লেখকঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

রেটিংঃ ৫/৫

রিভিউয়ারঃ সুমাইয়া শেফা

দৃষ্টি প্রদীপ

বৃষ্টি হলে কৈ মাছ কেন পানি থেকে উঠে আসে?


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.