দূরবীন: রিভিউ

দূরবীন 👉চলমান শতাব্দীর দুইয়ের দশকের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে আটের দশক পর্যন্ত বিস্তৃত সময়ের প্রেক্ষাপটের ‘দূরবীন’ উপন্যাস। শীর্ষেন্দ মুখোপাধ্যায়ের […]

দূরবীন

👉চলমান শতাব্দীর দুইয়ের দশকের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে আটের দশক পর্যন্ত বিস্তৃত সময়ের প্রেক্ষাপটের ‘দূরবীন’ উপন্যাস। শীর্ষেন্দ মুখোপাধ্যায়ের জোরালো সংবেদনশীল কলমে অন্যতম মহৎ সৃষ্টি। দূরবীন মূলত তিন প্রজন্মের তিন পুরুষের একটি উপন্যাস। সামাজিক জীবনের যাবতীয় পরিবর্তনকে আশ্চর্য কৌতুহলকর বিশাল কাহিনির মধ্য দিয়ে রাখা হয়েছে এই উপন্যাসে। 

দূরবীন
দূরবীন

প্রথম পুরুষ জমিদার হেমকান্ত চৌধুরী শান্ত স্বভাবের, ধীরস্থির একজন। দাদা বরদাকান্ত সন্ন্যাসী হয় ও ছোট ভাই নলিনীকান্ত নৌকাডুবিতে মৃত্যুর কারণে পিতার সমস্ত জমিদারি হেমকান্ত একা পায়। তবে জমিদারি ধরে রাখা বা বাড়ানোর কোন ইচ্ছে তার ছিলো না।রঙ্গময়ী নামের প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পূর্ণ পুরোহিত কন্যার সাথে হেমকান্তের ছিলো গোপন প্রণয়কাহিনি। হেমকান্তের অল্প বয়সে স্ত্রী বিয়োগ ঘটে। তখন ছোট দুই পুত্র কন্যা বিশাখা ও কৃষ্ণকান্তকে কোলেপিঠে করে বড় করে রঙ্গময়ী। তিন কন্যা ও তিন পুত্রের পিতা হেমকান্ত ছেলেমেয়েদের প্রতি ভালোবাসা, টান কখনো অনুভব করেন নি। ব্যতিক্রম শুধু ছোটপুত্র কৃষ্ণ। কৃষ্ণকান্তের প্রতি অসম্ভব দূর্বল ছিলেন তিনি। কিশোর বয়স থেকেই কৃষ্ণ তেজী, বিবেচক, বিচক্ষণ, বিপ্লবী। স্বাধীনতার পর রাজনীতিতে আরও পাকাপোক্ত হয়, মন্ত্রী হয়ে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে বড় আসনেও বসে। 

সারাজীবন রাজনীতিতে থাকার কারণে পরিবারের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে পারেন নি। তবে মেজো পুত্র ধ্রুবর প্রতি তিনি দূর্বল ছিলেন। অন্যদিকে ধ্রুব ছিলো পিতা বিরুদ্ধ, দিকভ্রষ্ট, উদ্ধত। স্ত্রী রেমির প্রতিও তার অদ্ভুত আচরণ। কখনো ভালোবাসা, কখনো উপেক্ষা, কখনো বা প্রবল বিরাগ।অথচ রেমি ভালোবাসার শত আঘাতেও অবিচল। শ্বশুরের কাছ থেকে পায় অগাধ ভালোবাসা, স্নেহ। 

কৃষ্ণকান্ত চৌধুরী প্রচন্ডভাবে ভালোবাসতেন ধ্রুবকে,কিন্তু ধ্রুব সেটা কখনো বুঝতে চায়নি,নানাভাবে তাকে কষ্ট দেয়। এসবকিছুই তার মতো পাহাড়সম ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ মানুষকে ঠেলে দেয় চরম পরিণতির দিকে। এই কঠোর ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ মানুষটি আত্মহত্যা করেন। ধ্রুব তার ভুল বুঝতে পারে, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে যায়। 

👉এই উপন্যাসে কৃষ্ণকান্ত চৌধুরীর চরিত্র আমার বেশি ভালো লাগে। কিশোর বয়স থেকে উনার পাহাড়সম ব্যক্তিত্ব,সাহস, কঠোরতা, কমলতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। রাজনীতি করার জন্য পরিবারের দিকে নজর দিতে না পারায় স্ত্রীর আত্মহত্যা- বিষয়টি আমার কাছে খারাপ লাগে। তবে লেখক উপন্যাসের খাতিরে ঘটনা এভাবে সাজিয়েছেন। আমি চাইবো বাস্তব জীবনে কেউ যেন এরকম না করেন,রাজনীতির পাশাপাশি পরিবারের প্রতি নজর দেন। 

শুধু দূরকেই কাছে আনে না, কাছের জিনিসও দূরে দেখায় দূরবীন। দূরবীন উপন্যাসের নামকরণে যেমন সূক্ষ্মতা, রচনারীতিতেও তেমনি অভিনবত্ব এনেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। সবমিলিয়ে উপন্যাসটি আমার কাছে ভালো লেগেছে। সব বয়সের মানুষই পড়তে পারবেন।

মেঘনাদবধ কাব্য- রিভিউ

দূরবীন উপন্যাসের উক্তি

১.নারীদের বিচারের মাপকাঠি আলাদা ।

২.মানুষকে বিচার করিতে হইলে তাহার অতীতেরও খানিকটা বিশ্লেষণ প্রয়োজন ।

৩.জীবনটাকে উপভোগ্য করিয়া তুলিবার জন্য একটু দুরত্বেরও প্রয়োজন আছে ।

৪.যে প্রদীপশিখাটি নিষ্কম্প ও স্থির হইয়া জ্বলিতেছে তাহাকে একটি প্রদীপশিখা বলিয়া মনে হয় বটে, কিন্তু আসলে প্রতিটি মুহুর্তেই শিখাটি মরিয়া একটি নতুন শিখা জন্ম লইতেছে।

৫.তোমাকে ছেড়ে আমি থাকতে পারি না। তবু তোমার জন্যই তোমাকে ছেড়ে থাকতে হবে।

৬.ছেলেরা রিস্ক নিতে ভয় পায়।

৭.ছেলেরা অগ্র পশ্চাৎ বিবেচনা করে। মেয়েরা করে না।

৮. বয়সটা তো কথা নয়। যতদিন বাঁচি ততোদিন ই তো জীবন।

দূরবীন

বই পরিচিতি

বই নামঃ দূরবীন 

লেখকঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় 

ক্যাটেগরিঃ উপন্যাস

প্রকাশনীঃ আনন্দ

প্রথম সংস্করণঃ জানুয়ারি ১৯৮৬ 

দূরবীন

আরো জানতে আমাদের কন্ঠনীড়ে সাইটে থাকুন


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.