চতুরঙ্গ

চতুরঙ্গ রবীন্দ্রনাথ এর বই মানের একটু গভীর! হয়তো একটু নয়,পুরোটাই গভীর চেতনাধারায় পরিপূর্ণ। চতুরঙ্গবইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। চারজন মানুষের জীবননাট্যকে […]

চতুরঙ্গ

রবীন্দ্রনাথ এর বই মানের একটু গভীর! হয়তো একটু নয়,পুরোটাই গভীর চেতনাধারায় পরিপূর্ণ। চতুরঙ্গ
বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। চারজন মানুষের জীবননাট্যকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথমে বলা হয়েছে জগোমোহনের কথা।যিনি নাস্তিক এবং মানবসেবাই যার ব্রত।


“ঈশ্বর বিশ্বাসীর সঙ্গে তিনি এই পদ্ধতীতে তর্ক করিতেন-
‘ঈশ্বর যদি থাকেন তবে আমার বুদ্ধি তারই দেওয়া;
সে বুদ্ধি বলিতেছে যে ঈশ্বর নাই;
অতএব ঈশ্বর বলিতেছেন যে,ঈশ্বর নাই
;


চতুরঙ্গ
চতুরঙ্গ

অথচ তোমরা তাঁর মুখের উপর জবাব দিয়া বলিতেছ যে, ঈশ্বর আছেন।এই পাপের শাস্তিরূপে তেত্রিশ কোটি
দেবতা তোমাদের দুই কান ধরিয়া জরিমানা আদায় করিতেছে।“

তিনি তার ছোটভাই হরিমোনের পূত্র শচীশ কে নিজের কাছে বড় করেছেন। শচীশের উপরেও তার জ্যাঠামশাই
জগমোহনের প্রভাব বিস্তর। বলা বাহুল্য,তাদের শুচিবায়ু হীন এবং সকলের সাথে মেলামেশা অন্যদের কাছে
চক্ষুশূল হবেই। মুসলমান চামার দের সেবা করার বিষয়টি নিয়েও হরিমোহনের সাথে ঝামেলা লাগতো।
এমন সময় তাদের জীবনে আগমণ ঘটে ননীবালা-র। যাকে সমাজ থেকে বিতারিত করা হয়েছিল তাকেই বাড়িতে
আশ্রয় দিয়েছিল শিচীশের জ্যাঠামশাই। সমাজের নোংরা দৃষ্টি থেকে তাকে বাঁচাতে বিয়ে করতে চেয়েছিল শচীশ।
কিন্তু করা হয় নি।
কেন হয়নি? কে-ই বা নষ্ট করেছিল ননী-র জীবন? কার কুকীর্তি ঢাকতে ননীবালাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল
শচীশ?
এই সব প্রশ্নের উত্তর আছে বইয়ে!!
হঠাত দেখা যায় শচীশ নাস্তিকতা বর্জন করে হয়ে উঠেছে আস্তিক।তাকে অনুসরণ করে তার বন্ধু এবং চতুরঙ্গ
বইয়ের গল্পকথক শ্রীবিলাস। আশ্রমে তাদের সাথে দেখা হয় চতুরঙ্গের আর এক অঙ্গ দামিনী-র।বিধবা
দামিনীও থাকতো আশ্রমে। তবে আশ্রমের অধিপতি লীলানন্দ স্বামীকে মানতো না দামিনী। শ্রীবিলাসের সাথে

তার বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিন জনকেই ছাড়তে হয় আশ্রম। এরপরেও তাদের
জীবনের চাকা চলতে থাকে নানা বাঁধার মধ্য দিয়ে।
শেষ পর্যন্ত কী হবে?সেটা তো বই পড়লেই বোঝা যাবে!

লেখনশৈলীঃ রবীন্দ্রনাথের লেখনশৈলী শুধু রবীন্দ্রনাথের-ই,তার সঙ্গে কারো তুলনা হয় না। মাত্র ৪৭ পৃষ্ঠার
একটা বইয়ের তিনি তুলে ধরেছেন সমাজের বেশ কিছু ভালোমন্দ দিক।ধর্ম সম্বন্ধে আস্তিক-নাস্তিক এর
নিজস্ব মনোভাব। অহেতুক গল্প বড় করেননি। তবুও মনোযোগ না দিলে বইয়ের গভীরতা নাও বুঝতে পারেন
পাঠক। এতো আর যে সে বই নয়, রবীন্দ্রনাথ এর বই।

চরিত্রঃ
 শচীশ
 জগোমোহন
 দামিনী
 শ্রী বিলাস
 ননীবালা
 হরিমোহন
এছাড়াও বইটিতে বেশ কয়েকটি চরিত্র আছে।চারটি প্রধান চরিত্রকে ঘিরে বইটি লেখা হলেও আমার মনে
হয়েছে শচীশ-ই মূল চরিত্র।
বইয়ের মানঃ বইয়ের মান যথেষ্টই ভালো লেগেছে।বানান তেমন ভুল ছিল না বললেই চলে।

চতুরঙ্গ
সোর্স: গুগোল চতুরঙ্গ

প্রকাশ কাল: একুশে বইমেলা ২০১৪

প্রকাশক :আবরারুল হুদা

প্রকাশনী :রহমান বুকস, ৩৮/৪ বাংলাবাজার,ঢাকা

অক্ষরবিন্যাস :কম্পিউটার ল্যান্ড,৪৭/১ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০

মুদ্রণ :সালমানী মুদ্রণ সংস্থা, ৩০/৫ নয়াবাজার ঢাকা ১১০০

প্রচ্ছদঃ জাহাঙ্গীর আলম

মুল্যঃ ৮০ টাকা মাত্র

চতুরঙ্গ

এরকম আরো বইয়ের খবর পেতে ভিজিট করুন কন্ঠনীড় ওয়েবসাইটে!

রোজাবেল মা তোকে বলছি বইয়ের রিভিউ পড়ুন


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.