গীতবিতান

গীতবিতান

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নামটাতে শুনলেই একটা অন্যরকম অনুভূতি হয়। আমার মাথায় সবার আগে যে কথাটা আসে
তা হলো- একজন মানুষের এতকিছু ভাবতে পারে!? বোকার মতো একটা প্রশ্ন। রবীন্দ্রনাথ এর গান কার না
ভালো লাগে!
কিশোর-কিশোরীরা যেমন গলা ছেড়ে গায়-
“হারে রে রে রে রে
আমায় ছেড়ে দেরে দেরে
যেমন ছাড়া বনের পাখি মনের আনন্দে রে…”

তরুণ- তরুণীরাও তেমনি গুনগুনিয়ে গায়-
সখি,ভাবনা কাহারে বলে?
সখি যাতনা কাহারে বলে?…”
জীবনের অন্তীমের খোঁজ পেলে গায়-
“ যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
আমি বাইবো না মোর খেয়ার তরী এই ঘাটে…”

গীতবিতান
গীতবিতান

আট থেকে আশি সবার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত। আর এই রবীন্দ্রসঙ্গীত এর ভান্ডার গীতবিতান। আমার জীবনে
পড়া সেরা বইগুলোর একটি। সত্যি কথা বলতে খুব কম অনুভূতিই আছে যেগুলো আমি এই বইয়ে খুঁজে পাইনি।
যেকোনো অনুভূতিই মিলে যাবে গীতবিতানের কোনো না কোনো লাইন অথবা শব্দ অথবা কয়েক ছত্র কবিতার
সাথে। রবীন্দ্রনাথের গানগুলো কিন্তু আসলে কবিতাই, তবে উৎকৃষ্টতম কবিতা।

গীতবিতানের গানগুলোকে ভাগ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যায়ে। পূজা, স্বদেশ, প্রেম,
প্রকৃতি,বিচিত্র,আনুষ্ঠানিক ইত্যাদি বৈচিত্র্য আনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে সাজানো হয়েছে।

স্বদেশ পর্যায়ে রয়েছে দেশকে নিয়ে রচিত গানুগুলো।
“আমার সোনার বাংলা-
আমি তোমায় ভালোবাসি…”

আমাদের জাতীয় সঙ্গীতও রয়েছে স্বদেশ পর্যায়ে। এই গানগুলো যেমন দেশকে ভালো বাসতে শেখায় তেমনি দেয়
সাহসও-
“আমি ভয় করব না ভয় করব না।
দু বেলা মরার আগে মরব না ভাই,
মরবো না…”

পূজা পর্যায়ের গানগুলোকে অনেকেই মনে করে প্রেম পর্যায়ের। আসলে পূজা পর্যায়ের কিছু গানের ধরনটাই
এমন।তবে পূজা পর্যায়ের গানগুলিতে মূলত উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথের দেওয়া নির্মল শান্তির বাণী।

k

প্রেম পর্যায়ের গানগুলোতে আধ্যাত্মিক চেতনার মাঝেই ফুটে উঠেছে প্রেমের বাণী। এই গানগুলোতে আছে মধুর
মিলন, আনন্দ, বেদনা,বিচ্ছেদ,বিরহ!
“ যদি জানতেম আমার কীসের ব্যাথা তোমায় জানাতেম।
কে যে আমায় কাঁদায় আমি কি জানি তার নাম।“

প্রেমিকের কাছে ভালোবাসার আবেদনগুলো এই পর্যায়ের গানেই তুলে ধরেছেন রবীন্দ্রনাথ।
“ ভালোবেসে সখী,নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখো- তোমার মনের মন্দিরে।“

কৃষ্ণকুমারী

প্রকৃতির সাথে রবীন্দ্রনাথের ছিল এক অনবদ্য সম্পর্ক। সঙ্গীতেই শুধু নয় রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের
বিভিন্ন শাখাতেও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা বিকশিত হয়েছে। গানের মধ্যে ছয় ঋতুর উল্লেখ থাকলেও
প্রাধান্য পেয়েছে বর্ষা, শরত এবং বসন্ত।
“আহা আজই এ বসন্তে এত ফুল ফোটে ,
এত পাখি গায়!”
গানগুলো শুনলেই পাওয়া যায় ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া।
বিচিত্র পর্যায়ের গানগুলি আমার ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশিই প্রিয়। এই পর্যায়ের গানগুলোকে আপাত
দৃষ্টিতে সাদাসিদে মনে হলেও গানগুলোর রয়েছে গভীর ভাবার্থ।
“ জোনাকি কী সুখে ঐ ডানা দুটি মেলেছো?

আঁধার সাঁঝে বনের মাঝে উল্লাসে প্রাণ ঢেলেছো।“

শেষে একটা কথাই বলব, রবীন্দ্রনাথের গান যে শোনেনি বা পড়েছি আমার ধারণা সে বাংলা সাহিত্যের কিছুই
পড়েনি!(ব্যক্তিগত মতামত)

নষ্টনীড়//রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

tothobari.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.