রিভিউঃ কবিদাদুর গল্প

কবিদাদুর গল্পঃ যামিনীকান্ত সোম (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)        গ্রন্থটিতে আছে রবীন্দ্রনাথের শৈশবের …

কবিদাদুর গল্পঃ যামিনীকান্ত সোম (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

       গ্রন্থটিতে আছে রবীন্দ্রনাথের শৈশবের

        মনোহর কাহিনি, কৈশোর ও যৌবনের 

        সাধনার কথা এবং বার্ধক্যের অপূর্ব 

        চিন্তাধারার রসবহুল গল্প।গ্রন্থটির 

        সাহায্যে কবিকে এবং কবির সৃষ্টিধারাকে

        উপলব্ধি করা সহজ হবে। সমালোচক

        মনে করেন শিশুদের উদ্দেশ্য লেখা 

        গ্রন্থটি— বড়দেরও মন জয় করবে।”

🔹রিভিউঃ উপরের কথাগুলো যে চরম সত্য আপনি বুঝতে পারবেন না, যদি না বইটি পড়েন! লেখক আসলেই রবীন্দ্রনাথকে অসম্ভব সুন্দর ভাবে ছোটদের জন্য তুলে ধরেছেন।ছোটদের জন্য লেখা হলেও বড়রাও বইটি পড়ে অসম্ভব মজা পাবে।বইটিতে লেখক রবীন্দ্রনাথকে কবিদাদু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং পাঠকদের তুমি বলে সম্মোধন করেছেন।

বইটিতে যেমন রয়েছে কবিদাদুর জীবনের সকল স্তরের গল্প তেমনই বইটিতে প্রবন্ধ মতো অনেক মজাদার তথ্য দিয়েছেন গল্পের আকারে!বইটিতে রয়েছে ২/৩ অনেক মজার গল্প,বিভিন্ন সময়কার অনেক ছড়া-কবিতা,এবং অনেকগুলো কবিদাদুর লেখা চিঠি!এবং লেখক তার গল্পের একদম শেষে আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যত বেশি সম্ভব রবীন্দ্রনাথের লেখা এবং চিঠি পড়তে।

এছাড়াও বইটিতে আপনি রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন ভ্রমণের সময়কার বর্ণনা এবং তাঁর ভালো লাগা মন্দ লাগার বিষয়গুলো জানতে পারবেন।বইটি মাত্র ৭২ পৃষ্ঠার,এই অল্প লেখাতে আপনি খুজে পাবেন অসংখ্য চিত্তাকর্ষক বিষয়।এককথায় অল্প সময়ে অল্প কথায় যদি আপনি রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে উনার লেখা সম্পর্কে এবং সর্বোপরি উনার দর্শন সম্পর্কে যদি কোন কিছু দিয়ে শুরু করতে চান তাহলে এই বইটি দিয়ে শুরু করতে পারেন।

এবং আপনি হয়তো রবীন্দ্রনাথের কোন লেখায় কখনো পড়েন নি কিন্তু তার সম্পর্কে এবং তার লেখা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন তাহলে কবিদাদুর গল্প একেবারেই সময়োপযোগী আপনার জন্য!

তবে একটা কথা বলে রাখি,বইটি বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই রেয়ার এবং বাংলাদেশ ও কলকাতা দুজায়গায়ই বইটি দূর্লভ।তবে আপনি বইটি Goodreads এ পাবেন পড়তে চাইলে সেখানে গিয়ে পড়তে পারেন!

🔹বইটি কাদের জন্য এবং কেন পড়বেনঃ বইটি সকলের জন্য এবং সকলেই বইটি পড়ে মজা পেতে বাধ্য।এবংবইটি যে শুধুই ছোটদের জন্য না এবং কেন পড়বেন এর কারণ বোঝার আগে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিনঃ-

১.রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রথম কবিতাটি কি এবং কোনটি?

২.রবীন্দ্রনাথের ছোটবেলা,কৈশোর,যৌবন,বৃদ্ধ বয়স সম্পর্কে কতোটুকুই জানেন!

৩.তাঁর লেখা কয়টা চিঠি,গল্প,কবিতা পড়ছেন?

৪.আচ্ছা এতো কিছু বলা লাগবে না,রবীন্দ্রনাথরা কয় ভাইবোন?তিনি যে,তাঁর জীবনের ৭ দশকের পরে ছবি আঁকা শুরু করেও পেয়েছে খ্যাতি!

কী কয়টা বিষয় পারলেন!আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্কে ধরাবাঁধা কয়েকটি কথায় হয়তো জানি কিন্তু এই জানার পেছনেও যে রয়েছে এমনই হাজারো গল্প সেগুলো হয়তো কোন দিন জানটাও হবে না।তাই সকলের জন্য এই বইটি এবং সকলেই পড়তে পারেন নিঃসন্দেহে।

ধরুন আমরা সকলেই জানি যে,রবীন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ে অনেক কম পড়াশোনা করেছে কিন্তু বইটি পড়ে আমি জানতে পারলাম যে,সত্যিই কবিদাদু বিদ্যালয়ে কম গেলেও উনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্যদের থেকে পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি নম্বর এবং বিদ্যালয়ে না গেলেও বিদ্যালয়ের থেকে বেশি পড়াশোনা করেছেন তিনি এবং করতে হয়েছে তাকে।তার বিভিন্ন বিষয়ের পারদর্শিতা, ভ্রমণকাহিনী এবং সাধারণ মানুষদের মাঝে নিজেকে পেয়েছেন সবচেয়ে খুশি।এমনই সব বিষয়গুলো রয়েছে কবিদাদুর গল্পে।

“আমি সেই বিচিত্রের দূত।আমরা নাচি নাচাই,হাসি

হাসাই,গান করি,ছবি আঁকি।

বিচিত্রের লীলাকে অন্তরে গ্রহণ করে তাকে বাইরে

লীলায়িত করা—- এ আমার কাজ।

তাঁর বিচিত্র রসের বাহনের কাজ আমি গ্রহণ 

করেছি,তাঁর রঙ্গশালার বিচিত্র রূপকগুলিকে

সাজিয়ে তোলবার ভার পড়েছে আমার উপর,

এই–ই আমার পরিচয়।”

কবিদাদু এমনই সব সুন্দর দর্শন তার লেখায় ধারণ করতেন।এবং হয়তো এই কারনেই তিনি সকালের কাছে পূজনীয়।

🔹লেখক পরিচিতিঃ এটা খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য যে,আমি বিভিন্ন অনলাইন ও অফলাইনে অনেক খোজাখুজি করার পরে-ও শ্রদ্ধেয় লেখক “যামিনীকান্ত সোম” এর কোন ধরনের পরিচয় বের করতে পারি নি।এটা আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক এবং অপমানের।আমরা এমন একজন গুণী লেখকে হারিয়ে ফেলেছি!

অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের লক্ষ লক্ষ শব্দ থাকলেও লেখকের জন্য আমি ৩টা শব্দ একসাথে পায়নি!ইনশাআল্লাহ কোন একদিন এখানে এই জায়গায় উনার সম্পর্কে পুরো একটা প্রবন্ধ লেখা থাকবে!আজকে যামিনীকান্ত সোম এর জন্য শুধুই শ্রদ্ধা!তাঁর লেখা কিছু বইয়ের সন্ধান পেয়েছি সেগুলো হলোঃ

১.কবিদাদুর গল্প

২.ছেলেদের বিদ্যাসাগর

৩.ছেলেদের রবীন্দ্রনাথ

৪.শ্রীরামকৃষ্ণ

৫.শ্রীআরবিন্দ

🔹ভালোলাগার বিষয়গুলোঃ বইয়ের লেখায় আমার প্রতিটি বিষয়ই অনেক ভালো লেগেছে। তবে বিশেষ করে কবিদাদুর পদ্মার নদীতে বসবাস এবং সেখানে থেকে অন্য মানুষদের জীবনযাপন উপলব্ধি করা,সেখানে বসে আপন মনে লেখালেখি করা।এছাড়াও তার যে চিঠিগুলো বইটিতে ছিল সেগুলো এবং ছড়াগুলোও অনেক সুন্দর লেগেছে।এছাড়াও কবিদাদু,তার বোনকে যে দুটি গল্প শুনিয়েছিলেন ঐ গল্পদুটো অসম্ভব মজার ছিল।

🔹খারাপলাগা বিষয়গুলোঃ খারাপ লাগর বিষয় বলতে আমার মনে হয়েছে আরও একটু যদি বেশি জানতে পারতাম বা আরও একটু যদি বেশি বর্ণনা করা হতো তাহলে আরও উপভোগ করা যেতো।

🔹পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ যামিনীকান্ত সোম এর পড়া এটাই আমার একমাত্র বই।কিন্তু তার যে লেখার মাধুর্য তা এই বইটিই আমাকে উপলব্ধি করিয়েছে পতিটি লাইনে।আমার অনেক ধারণা ভেঙে গেছে অনেক নতুন কিছু জানতে পেরেছি এবং সবচেয়ে বড় কথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্কে আমার ভালোলাগা কাজ করতে শুরু করেছে।এবং আমি উনার অনেক ছড়া ও চিঠি পড়তে পেরেছি এবং আমার সবচেয়ে বেশি মজা লেগেছে গল্পদুটো পড়ে।এককথায় অসাধারণ একটা অনূভুতি!

🔹বই পরিচিতিঃ

বইয়ের নামঃ কবিদাদুর গল্প

লেখকঃ যামিনীকান্ত সোম

প্রকাশনীঃ লালমাটি (কলকাতা)

প্রথম প্রকাশঃ অক্টোবর ১৯৬১; ১৩ই জুলাই ২০১০ (লালমাটি সংস্করণ)

প্রচ্ছদ ও অলংকরণঃ শৈল চক্রবর্তী

পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭২

প্রচ্ছদ মূল্যঃ ৪০ টাকা (কলকাতা)

ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৯.০/১০

source: wikipedia

আরো জানতে ক্লিক করুন পোস্ট পারটাম ডিপ্রেশন

শরৎচন্দ্রের সেরা কিছু গ্রন্থতালিকা


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.