আহমদ ছফার জীবনী

আহমদ ছফার জীবনী আহমদ ছফা একজন বাংলাদেশি লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি, চিন্তাবিদ ও গনবুদ্ধিজীবী ছিলেন। তাঁর লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণ […]

আহমদ ছফার জীবনী

আহমদ ছফা একজন বাংলাদেশি লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি, চিন্তাবিদ ও গনবুদ্ধিজীবী ছিলেন। তাঁর লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণ প্রাধান্য পেয়েছে।আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসই ভাষিক সৌকর্য, বিষয়বস্তু এবং রচনাশৈলীর অভিনবত্বে অনন্য। মানসিক, সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুষঙ্গ সহ ছফার চরিত্র সৃষ্টির তথা কাহিনিকথনের পারঙ্গমতা অতুলনীয়।


আহমদ ছফা ৩০জুন, ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা হেদায়াত আলী এবং মাতা আসিয়া খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করেন।
আহমদ ছফাকে সলিমুল্লাহ খান, জাতীয় অধ্যাপক আব্দুল রাজ্জাক, কাজী নজরুল ইসলাম এর মও বিখ্যাত ইসলামিক কবিদের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি লেখক মনে করা হতো। তিনি প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা ইত্যাদি লিখতেন।


নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি


প্রবন্ধ


১। জাগ্রত বাংলাদেশ(১৯৭১)
২। বাংলা ভাষাঃ রাজনীতির আলোকে (১৯৭৫)
৩। বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস(১৯৭২)
৪। বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা (১৯৭৭)
৫। বাঙালি মুসলমানের মন ( ১৯৮১)
৬। শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ(১৯৮৯)
৭। রাজনীতির লেখা( ১৯৯৩)
৮। আনুপূর্বিক তসলিমা ও অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রবন্ধ(১৯৯৪)
৯। নিকট ও দূরের প্রসঙ্গ (১৯৯৫)
১০। সঙ্কটের নানা চেহারা(১৯৯৬)
১১। সাম্প্রতিক বিবেচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস(১৯৯৭)
১২। শতবর্ষের ফেরারিঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(১৯৯৭)
১৩। শান্তিচুক্তি ও নির্বাচিত প্রবন্ধ(১৯৯৮)
১৪। বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র (২০০১)
১৫। উপলক্ষের লেখা(২০০১)
১৬। আমার কথা ও অন্যান্য প্রবন্ধ(২০০২)
১৭। সেইসব লেখা(২০০৮)
১৮। সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস(১৯৭৯)



উপন্যাস


১। সূর্য তুমি সাথী(১৯৬৭)
২। ওস্কার(১৯৭৫)
৩। একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন(১৯৮৮)
৪। মরণবিলাস(১৯৮৯)
৫। আলাতচক্র(১৯৯৩)
৬। গাভী বিত্তান্ত(১৯৯৫)
৭। অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী( আত্মজৈবনিক প্রেমের উপন্যাস,১৯৯৬)
৮। পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ(১৯৯৬)


সৃজনশীল জীবনী


১। যদ্যপি আমার গুরু(১৯৯৮)


অনুবাদ গ্রন্থ


১। তানিয়া( মূলঃ পি লিডভ, ১৯৬৭)
২। সংশয়ী রচনাঃ বারটান্ড রাসেল(১৯৮২)
৩। ফাউস্ট ( মূলঃ ইয়োহান ভোল্ভ গাঙ ফন গ্যোতে,১৯৮৬)


কবিতা


১। জল্লাদ সময়(১৯৭৫)
২। দুঃখের দিনের দোহা(১৯৭৫)
৩। একটি প্রবীন বটের কাছে প্রার্থনা (১৯৭৭)
৪। লেনিন ঘুমোবে এবার(১৯৯৯)
৫। আহিতাগ্নি(২০০১)


গল্পসমগ্র


১। নিহত নক্ষত্র(১৯৬৯)


কিশোর গল্প


১। দোলা আমার কনকচাঁপা (১৯৬৮) শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ
২। গো-হাকিম(১৯৬৮)



পুরষ্কার


আহমদ ছফা তাঁর অভূতপূর্ব লেখনীর মাধ্যমে অর্জন করেছেন বেশ কয়েকটি পুরষ্কার। তিনি লেখক শিবির পুরষ্কার ও বাংলা একাডেমি কর্তৃক সাদাত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। ১৯৮০ সালে তিনি ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। তাঁকে ২০০২ সালে সাহিত্যে( মরণোত্তর) একুশে পদক প্রদান করা হয়।

বিখ্যাত চিন্তাবিদ আহমদ ছফার মূল্যবান উক্তি সমূহ


“ জীবন সম্ভবত এরকমই! আঘাত যত মারাত্মক হোক, দুঃখ যত মর্মান্তিক হোক, একসময় জীবন সবকিছু মেনে নেয়। দুনিয়াতে সবচাইতে আশ্চর্য মানুষের জীবন।“
-আলাতচক্র (পৃ ৭০)
-আহমদ ছফা
“ সমস্ত সাফল্য এবং প্রতিষ্ঠার পেছনে সব সময় এক ধরণের নিষ্ঠুরতা আত্মগোপন করে থাকে।!”
-মরণ বিলাস (পৃ ৪৮)
-আহমদ ছফা
“ আমার নিজের কাজের মূল্য আছে, তার স্বীকৃতি অন্যেরা দিতে কুণ্ঠিত হয়, আমি বসে থাকব কেনো? কেউ না দেখুক, আমি তো নিজে আমাকে দেখছি!”
-অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (পৃ ১১৯)
-আহমদ ছফা
“ পৃথিবী থেকে সাপ এবং শকুনের বিশেষ প্রজাতি বিলুপ্ত হলে কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না, একেক টাইপের মানুষের মধ্যে এই সাপ-শকুনের নতুন জীবনলাভ করে বেঁচে থাকবে!”
-অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী ( পৃ ৮৯)
-আহমদ ছফা
“আমার সম্বন্ধে সব চাইতে ট্রাজেডি হলো আমি নিজের মধ্যে ডুবতে পারিনি।
“ মাজারে মানুষ আসবেই। মানুষ আসবে কারণ সে দুর্বল, অসহায় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী।“
“লোকে যাই বলুক,যাই অনুভব করুক,নিজের কাছে আমি অনন্য।“
“ আপাতদৃষ্টিতে পাগলেরাই অনেক বেশি তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী।“


ব্যাক্তিগত জীবন


আহমদ ছফা সারাজীবন অকৃতদার থাকলেও কয়েকজন নারীর সাথে তার প্রণয় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শামিম শিকদার ও সুরাইয়া খানম। এদের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাস ‘ অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ উপন্যাসটি রচনা করেছিলেন।


মৃত্যু


২০০১ সালের ২৮শে জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। বাংলা ভাষার একজন শ্রেষ্ঠ প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক চিরজীবনের জন্যে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তিনি আজও মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন তার কাজের মাধ্যমে, তিনি বেঁচে থাকবেন প্রতিটি বাঙালির মনে,হৃদয়ের গভীরে।


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.