রিভিউ: আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি

আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি ডায়েরী কথাটা শুনলেই নিজের অজান্তেই কৌতূহল জেগে উঠে। আর সেটা যদি পড়ার অনুমতি থাকে তাহলে আর কৌতুহল […]

আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি

ডায়েরী কথাটা শুনলেই নিজের অজান্তেই কৌতূহল জেগে উঠে। আর সেটা যদি পড়ার অনুমতি থাকে তাহলে আর কৌতুহল সামলানোর উপায় থাকে না।অন্ততপক্ষে আমি তো পারি না। আর কথা না বাড়িয়ে বইয়ের কথায় আসি


পাঠ সংক্ষেপ

আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি
আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি

আনা ফ্রাংকের ডায়েরি বইটি বন্দি জীবনযাপন করা একজন সদ্য কিশোরীর দিনলিপি। আনা ফ্রাংক নামের একজন হাসিখুশি মেয়ে তার ১৩ তম জন্মদিনে বাবার থেকে উপহার পায় একটি লাল ডোরাকাটা মলাটের ডায়েরী। একজন সত্যিকারের বন্ধুর অভাবে আনা তার মনের কথা লিখতে শুরু করে এই ডায়েরীতে। যেটি হয়ে ওঠে তার সব রকম অনুভূতির সঙ্গী। আনা তার ডায়েরীকে ডাকত কিটি বলে।পড়তে পড়তে মাঝে মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে সত্যিকারের আনাকে! কখনো সে ছেলেমানুষ,আবার কখনো সে আশ্চর্য গভীর।সবার উপর হুটহাট রেগে যায় আবার জীবনের গভীর উপলব্ধিগুলো অনেক সহজেই বলে দেয়।অধিকাংশ মানুষের মতো কৈশোরে আনাও প্রেমে পড়েছে। দিনরাত পেটারকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছে। আবার দিনশেষে আদরের কিটিকে এও বলেছে যে সে প্রেমে পড়েনি। কখনো সে মায়ের উপর রেগে গেছে,আবার কখনো ফুটে উঠেছে মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা। সব মিলিয়ে সে যেন এক রহস্যময়ী মানবী। আনা স্বপ্ন দেখত লেখক হওয়ার। মৃত্যুর পরও মানুষের মনে বেঁচে থাকার।তার স্বপ্ন পুরণ হয়েছে। আনা বেঁচে আছে আমাদের মনে,আর চিরকাল থাকবে। কিটিকে লেখা আনার শেষ লাইন-
“ সমানে চেষ্টা করতে থাকি রাস্তা খোঁজার,যাতে হওয়া যায় যা হতে চেয়েছি এবং যা হতে পারি, যদি… পৃথিবীতে আর কোনো জনপ্রাণী বেঁচে না থাকত!

সাঁতারু ও জলকন্যা ( শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়)


লেখক পরিচিতি

আহমদ ছফার জীবনী

আনা ফ্রাংকের জন্ম ১২ জুন ১৯২৯ সালে। ১৯৩৩ সালে আনার পরিবার আমস্টারডামে যান এবং সে বছরেই জার্মানির ক্ষমতায় আসেন নাৎসিরা। ১৯৪০ সালে তারা নাৎসি জার্মানির আমস্টারডাম দখলের কারণে সেখানে অন্তরীন হয়ে পড়ে। পরে ইহুদী জনগণ এর উপর অত্যাচার বাড়তে থাকায় তারা অটো ফ্রাংকের লুকোনো কক্ষে লুকিয়ে অবস্থান করে। ৪ আগস্ট ১৯৪৪ সালে তারা জার্মান রক্ষিদের হাতে ধরা পরে। আনা ফ্রাংক এবং তার বোন মার্গো ফ্রাংক বন্দিশিবিরে টাইফাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর ডায়েরিটা উদ্ধার করেন মাইস গিউস নামের এক ব্যক্তি এবং তার বাবার হাতে তুলে দেন। অটো ফ্রাংক কন্টাক্ট পাবলিশিং থেকে আনার দিনলিপিটি ‘হেট একটেরহাইন’ নামে ১৯৪৭ সালে প্রথম বই আকারে প্রকাশ করেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ টিরও বেশি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।

আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি


পাঠ প্রতিক্রিয়া

অন্যের ডায়েরি পড়ার মধ্যে একটা মাথা ঝিমঝিম করার ব্যাপার থাকে। আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি বইটা পড়ার সময়ও আমার খানিকটা অস্বস্তি লেগেছিল।সে যাই হোক, এখন অবধি এই বইটা আমি বেশ কয়েকবার পড়েছি। একটা ভালো বইয়ের বড় গুণ হচ্ছে পড়ার সময় একঘেয়েমি না লাগা। এই বইটাও সেরকমই একটা বই। অনুবাদ গ্রন্থ হলেও একঘেয়েমি লাগেনি।তারপরেও সকলের পড়ার ভঙ্গী তো এক হয় না। একজন লেখকের লেখা হিসেবে পড়লে আপনার কাছে একটু আধটু খারাপ মনে হতেই পারে। আবার একজন কিশোরীর আবেগময় ডায়েরী হিসেবে পড়লে নিজেকেও আবেগআপ্লুত হতে হয়। আনা ফ্রাংক তার ডায়েরিই মাধ্যমে আমাদের আছে চিরকিশোরী হয়ে থাকবে।


বইয়ের প্রতি ভালোবাসা আমার এই জায়গায়

মৈমনসিংহ গীতিকা


💎 মানুষের চেয়ে কাগজে সয় বেশি।
💎 সব কষ্টের উপশম ঘটায় প্রকৃতি।
💎 যে নিজে সুখি সে অন্যদেরকেও সুখি করবে।যার সাহস আর বিশ্বাস আছে সে কখনও দুঃখ-কষ্টে মারা পড়বে না।
💎 আমার ধারণা, আমি সফল হব।কেননা আমি লিখতে চাই।
💎 আমার নিজের লেখার সবচেয়ে ভালো এবং তীব্রতম সমালোচক আমি নিজে। আমি জানি কোনটা সুলিখিত,কোনটা সুলিখিত,কোনটা নয়। যে নিজে লেখে না সে জানে না লেখা জিনিসটা কী অপুর্ব একটা ব্যাপার!
💎 বহুজনে ভালবাসলেই একজন নিঃসঙ্গ বোধ করতে পারেন,কেননা তিনি তো কারো কাছেই ‘এক এবং একমাত্র’ নন।
💎 মায়ের স্থান কখনো বন্ধু নিতে পারে না।আমি একান্ত ভাবেই চাই আমার মা হবেন এমন একজন আদর্শ যাকে আমি অনুসরণ করতে পারি,আমি চাই যাতে তাকে আমি ভক্তিশ্রদ্ধা করতে পারি।
💎 লোকে বলে ‘সব সময় ছোটরা যা খারাপ দেখবে তাই শিখবে’- আমি তেমন হতে চাই না।আমি চাই গোটা জিনিসটা নিজে সযত্নে যাচাই করতে এবং কোনটা ঠিক আর কোনটা অতিরঞ্জিত তা খুঁজে বের করতে।
💎 নিজের ত্রুটির কথা মনে হলে যা ঘাবড়ে যাই,নইলে ভয় কাকে বলে আমি জানি না।

আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি

আরো জানতে আমাদের কন্ঠনীড়ে সাইটে থাকুন


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.