অরুন্ধতী রায়

বিশ্বখ্যাত “ম্যান বুকার” পুরষ্কার প্রাপ্ত “দ্য গড অব স্মল থিংকস” এর স্রষ্টা অরুন্ধতী রায় (জন্ম ২৪ নভেম্বর ১৯৬১)। এই উপন্যাস […]

বিশ্বখ্যাত “ম্যান বুকার” পুরষ্কার প্রাপ্ত “দ্য গড অব স্মল থিংকস” এর স্রষ্টা অরুন্ধতী রায় (জন্ম ২৪ নভেম্বর ১৯৬১)। এই উপন্যাস রচনা ছাড়াও পরিবেশগত সংশ্লিষ্টতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক আলোচিত ব্যক্তি।

চলুন জেনে নেওয়া যাক অরুন্ধতী রায় জীবন সম্পর্কে-

অরুন্ধতী রায়ের পুরো নাম সুজান্না অরুন্ধতী রায়।জন্ম ভারতের আসাম রাজ্যের শিলংয়ে। তার পিতা রঞ্জিত রায় এবং মাতা সিরিয়ান খ্রিস্টান ম্যারি রায়। অরুন্ধতীর ছোটবেলাটা কাটে কেরালার আয়মানাম এলাকায়।তিনি কত্তায়ামের কর্পাস ক্রিস্টি বিদ্যালয় এবং তামিলনাড়ুর নীল্গিরিতে লরেন্স বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। এরপর স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে দিল্লির পরিকল্পনা ও স্থাপত্য বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন।

অরুন্ধতী রায়; ইমেজ সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন

স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে পড়াকালীন সময়ে অরুন্ধতীর সাথে গেরার্ড দ্য কুনহার সাথে পরিচয় হয়। পরিবর্তীতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিচ্ছেদ ঘটার পর ১৯৮৪ সালে  তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ কৃষাণকে  বিয়ে করেন। বর্তমানে অরুন্ধতী রায় দিল্লীতে বসবাস করেন।

দ্য গড অব স্মল থিংকস

 অরুন্ধতী রায়ের প্রথম উপন্যাস। তিনি এই উপন্যাসটি ১৯৯২ সালে লিখতে শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে শেষ করেন আধা-আত্মজীবনীমূলক এই বইটি। দ্য গড অব স্মল থিংকস তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দেয়। বইটির একটি প্রধান অংশ আয়ামানামে তার শৈশব এর কাহিনী। ১৯৯৭ সালে বইটি নিউইয়র্ক টাইমস এর উল্লেখযোগ্য বইগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেয় এবং বুকার পুরষ্কার পায়। বইটি নিউইয়র্ক টাইমসের মৌলিক ক্যাটাগরিতে বেস্ট সেলার বইগুলোর মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করে।

বইটির বাণিজ্যিক সাফল্যও ছিল ব্যাপক। এটি মে মাসে প্রকাশিত হয়েছিল এবং জুন মাসের শেষের দিক অবধি ১৮ টি দেশে বিক্রি হয়েছিল। বইটির জন্য রায় অর্ধ মিলিয়ন পাউন্ড অগ্রিম পেয়েছিলেন। বছরের শেষের দিকে এটি ১৯৯৭ এর টাইমস এর সেরা ৫ টি বইয়ের মধ্যে জায়গা করে নেয়। এটি ব্যাপক সমালচিত একটি বই।

source : google

আজাদিঃফ্রিডম, ফ্যাসিজম, ফিকশন

কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয় অরুন্ধতী রায়ের বই ‘আজাদিঃফ্রিডম, ফ্যসিজম,ফিকশন’। বইটি বেশ সাড়া ফেলেছে। লেখিকা বলেছেন,

“ আমার এই বইটার শিরোনাম কী হতে পারে, তা নিয়ে আলাপ করেছিলাম। যুক্তরাজ্য থেকে বইটির প্রকাশক সাইমন প্রসার আমার কাছে জানতে চাইল, ঠিক কোন ভাবনা তোমাকে ভাবিয়েছে যখন তুমি আজাদি নিয়ে ভাব? এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে নিজেকেই অবাক করে দিয়ে আমি উত্তর দিলাম,”একটি উপন্যাস!” আমার মতে একটি উপন্যাস হলো স্বাধীনতা………যার সাথে যুক্ত থাকে দায়িত্ব।সেই স্বাধীনতা সত্য ও ধ্রুব। এই গ্রন্থের বেশ কিছু রচনা একজন ঔপন্যাসিকের দৃষ্টিভঙ্গিতেই লেখা হয়েছে।রচনাগুলোর আমার উপন্যাসের জগতের ছায়া এসে পড়েছে।“

অরুন্ধতীর কথা থেকেই বোঝা যায়, স্বাধীনতা, ফ্যাসিজম, আর গল্প-উপন্যাসের মিলিত মোহনা এই আজাদি।

পড়ুন-কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর উপায়

পুরষ্কার

 ইন হুইচ এনি গিভস ইট দোজ ওয়ানসে এর জন্য তিনি ১৯৮৯ সালে সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরষ্কার পান।      দ্য গড অব স্মল থিংকস এর জন্য তিনি ১৯৯৭ সালে বুকার পুরষ্কার পান। যার অর্থমূল্য ছিল $ ৩০,০০০। ২০০২ সালে তিনি লান্নান ফাউন্ডেশনের ‘সাংস্কৃতিক মুক্তি পুরষ্কার’ লাভ করেন।

অরুন্ধতী রায় এবং রাজনীতি

আনন্দবাজারে অরুন্ধতী রায়ের একটি সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায় তিনি রাজনীতিতে আসার কথা একেবারেই ভাবেন না।তিনি বলেন,

“লেখকের ভূমিকাটা উলটো বলেই আমার মনে হয়। মনে হয়, অপ্রিয় কথাগুলো কে বলবে? কেউ বড় সিনেমা বানালে তাঁকে চুপ থাকতে হয়,কারণ তিনি ব্যবসা করে খাচ্ছেন। বলিউডের বেশিরভাগ মানুষ তাই চুপ। এমন লেখকও আছেন। কিন্তু আমি নিজের কাজটা ভুলতে পারি না।অনেকে কাজের মধ্যে সেন্সরশিপ তৈরি করে বসে আছেন। ক্ষমতাতোষণের বাইরে বেরিয়ে কথা বলার সাহস নেই। এটা বিপজ্জনক প্রবণতা।“

টাইম ম্যানেজমেন্ট বইয়ের রিভিউ পড়ুন – রিভিউ টাইম ম্যানেজমেন্ট

পেশা

কর্মজীবনের প্রথম দিকে তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করেছেন। ইলেকট্রিক মুন(১৯৯২) এবং ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোস ওয়ান্স(১৯৮৯) চলচ্চিত্র দুটির চিত্রনাট্যকার অরুন্ধতী রায়। দ্বিতীয়টি তার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্র এবং তিনি এটিতে অভিনয়ও করেছেন। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পান। চলচ্চিত্র দুটি তার স্বামী প্রদীপ কৃশেন পরিচালিত।

শেক্সপিয়ারের উক্তি পড়ুন


Popular Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.